প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজে। পৌর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করলেও কাজ শেষ করাতে পারছে না। এর ফলস্বরূপ, শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে যৌথ কাজটি পায় নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিনথিয়া ও আলামিন আনিসুর। ৪৭ লাখ টাকার কাজটি পরে সাব-কন্ট্রাক্ট নেন পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সেলিম শাহ। ইতোমধ্যে তিনি কাজের বিলও তুলে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গেট থেকে সুফিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ২০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও স্লাব বসানোর জন্য স্থানীয়দের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি কেটে গর্ত করে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির ১৩০ মিটার অংশে ঢালাই ও স্লাব বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। তবে পশ্চিমাংশে রড বসানো হলেও ঢালাই হয়নি, সমানে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীরও ধসে যেতে বসেছে।
এদিকে, ১০ মার্চ ড্রেন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ। প্রকল্পটির জন্য ধরা হয় ছয় মাস সময়সীমা। সে অনুযায়ী, ১০ আগস্ট নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন ও মাসুদ রানা জানান, সড়কের ড্রেন নির্মাণ ও স্লাব বসানোর কাজটি ধীর গতিতে চলছে। এতে শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় নিচের রডের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে তারা পৌর প্রশাসকের কাছে হস্তক্ষেপ চান।
পৌর প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, নিম্নমানের উপকরণ ও রড ব্যবহার করায় মাঝখানে নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। ২৬ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল অনুযায়ী কাজটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। কাজ শুরু হলেও ঢালাইয়ে নিম্নমানের পাথর এবং ১২ মিলিমিটার রডের সঙ্গে আট মিলিমিটারের রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিধি মেনে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মাসুম আলী বলেন, তাঁর ঠিকাদারি লাইসেন্সে পরীক্ষিত কাজটি করছেন সেলিম শাহ। তিনি দায়-দায়িত্বও নেন। তবুও তদারকি করা হচ্ছে।
সেলিম শাহ জানান, বৃষ্টির কারণে কাজে দেরি হয়েছে। দ্রুত নির্মাণ কর্ম সম্পন্ন করা হবে।
পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নির্মাণ কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য পৌর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন