প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে মোতায়েন থাকা, নাবিকদের কঠিন কর্মপরিবেশ এবং মানসিক চাপের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও তদন্তের প্রেক্ষাপটেই রণতরীটির দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, মাসের পর মাস বন্দরে না গিয়ে টানা দায়িত্ব পালন করায় জাহাজটির ক্রুদের মধ্যে ক্লান্তি, হতাশা ও মানসিক চাপ বেড়ে গেছে।
এছাড়া, পরিবার এবং আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান, খাদ্য, এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে, দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন শেষে সমালোচনার চাপ সামলাতে এবং নাবিকদের স্বস্তি দিতে রণতরীটি দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
একটি বিবৃতিতে হুং কাও বলেন, “ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন তাদের দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করেছে এবং পালাবদলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগিগিরই বাড়ি ফিরবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই: আমাদের নাবিক ও মেরিন সেনাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাবে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “অভিযান সফল করা। সেনাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এভাবেই আমরা নেতৃত্ব দিই।” কাও জানান, নভেম্বরে সানডিয়েগো থেকে রওনা হওয়ার পর ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আব্রাহাম লিংকন সাগরে মোতায়েন ছিল।
কাও স্বীকার করেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন করা কঠিন, যুদ্ধকালীন সামরিক অভিযানে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে এবং যুদ্ধ একটি নরক, যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা দৈনন্দিন রুটিন ঠিক থাকে না। যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যতম কঠিন দিক হল আমাদের সেনা সদস্যদের জেনেশুনে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া; যদিও সেরা পরিকল্পনা এবং যোগাযোগ থাকার পরও পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা সবসময়ই থাকবে। আমাদের সাফল্য নির্ভর করে আমরা কীভাবে নিজেদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিই তার ওপর,” বলেন তিনি।
কাও আরও বলেন, “নাবিক এবং মেরিন সেনাদের কাছ থেকে তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয় এবং তারা সবসময়ই তা করে। একজন নেতার দায়িত্ব হল অভিযানের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে তাদের অধীনস্থদের যথাসম্ভব সর্বোত্তম যত্ন নেওয়া। এই রণতরী (আব্রাহাম লিংকন) মোতায়েন অভিযানে আমরা উভয় বিষয়ই লক্ষ্য করেছি: কাজও ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং আমাদের নেতারা তাদের অধীনস্থ কর্মীদের যত্নও নিচ্ছেন।”
রণতরীটিতে রসদ সরবরাহ সংকট, কিছু নাবিকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, পচা খাবার এবং ছত্রাক পড়া গোসলখানার মতো শোচনীয় অবস্থার কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর কংগ্রেসে আব্রাহাম লিংকনের অবস্থা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত শুরুর দাবি ওঠে।
আব্রাহাম লিংকন প্রায় ৯ মাস ধরে সাগরে অবস্থান করছে। এই দীর্ঘ সময়ে কোনও স্বাভাবিক বন্দর বিরতি বা মাটিতে পা রাখার সুযোগ পাননি এর হাজার হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা। নৌযানটি টানা ২৫০ দিনের বেশি সময় ধরে তীরে না ভিড়ে সমুদ্রে ছিল; যা আধুনিক সময়ে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য একটি রেকর্ড।
প্রধানত পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে এই রণতরীটিকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোতায়েন রাখা হয়। নাবিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে রণতরীর ভেতরের বাস অযোগ্য পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সান ডিয়েগোতে মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রায় ২০০ নাবিক পরিবারের সদস্য তাদের উদ্বেগের কথা জানান। ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এক নারী জানিয়েছেন, তার স্বামী সেদিন তাকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি পরদিন আর ঘুম থেকে বাঁচতে চান না।
আরেক নাবিকের স্ত্রী নেভি টাইমস’কে জানান, সমুদ্রে থাকার মেয়াদ বারবার বাড়তে থাকার কারণে তার স্বামী এক পর্যায়ে জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অন্যান্য এক ঘটনায়, এক নাবিক লাফ দিতে গেলে তার সহকর্মী তাকে টেনে ধরে ডেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।
কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর চাপ ‘সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়ছে’। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সেনেটররাও। এক সেনেটর বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের তরী থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টার খবর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, তার ‘ভয়ংকর সতর্কসংকেত।’
আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা করেছিল। প্রথমে দক্ষিণ চীন সাগরে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটিকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয় ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর কারণে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন