প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। তাঁর মতে, ধূমপান নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে সেই আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। রবিবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মন্ত্রী এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ধূমপান থেকেই অনেক সময় মানুষ ধীরে ধীরে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই তিনি উল্লেখ করেন, মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি ধূমপান নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও বাড়ানো জরুরি। প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য জরিমানার বিধান রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সেই আইন কতটা প্রয়োগ হচ্ছে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোটরসাইকেল চালানোর সময় কিংবা রাস্তার পাশে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে অনেককেই ধূমপান করতে দেখা যায়, যা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
মন্ত্রী এ বিষয়ে আরও বলেন, প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য ৫০, ১০০ কিংবা ২০০ টাকা জরিমানা করা হলেও, এর একটি সামাজিক প্রভাব রয়েছে। তিনি মনে করেন, মানুষ যখন দেখবে যে ধূমপানের জন্য জরিমানা হচ্ছে, তখন তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে এবং প্রকাশ্যে ধূমপানকে অপরাধ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে উঠবে। মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা সম্পৃক্ত হবেন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে এখনো ৫১ শতাংশ বাল্যবিবাহের প্রবণতা রয়েছে। এটি রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণ-তরুণীদের সচেতন করে তুলে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন। মন্ত্রী আরও বলেন, ২০ বছর বয়সের আগে সন্তান না নেওয়ার বিষয়ে তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। এই উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব এবং শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হকসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কমিটির সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন