প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের পর থেকে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন নামকরণ ট্রাম্প নিজেই করেছেন।
‘সুপার ইন্টেলিজেন্সের যুগের সূচনা’ শিরোনামের এই নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন যতটা অনুমতি দেয়, সরকারি কাজে ‘এআই’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।
নির্দেশনার অধীনে, ফেডারেল সরকারের সব বিভাগ ও সংস্থাকে তাদের সরকারি চিঠিপত্র, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং নীতিমালার নথিতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি নথি ও যোগাযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য নতুন পরিভাষা ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এই নির্দেশনার কারণে আগের সরকারি নিয়ম, চুক্তি, অনুদান বা পুরোনো নথিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ নতুন এই পরিভাষা পূর্ববর্তী নথির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের কারণও নির্বাহী আদেশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। বর্তমানে এর সক্ষমতা প্রচলিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ ধারণার চেয়েও অনেক বেশি।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক এআই প্রযুক্তি শুধু মানুষের বুদ্ধিমত্তার কিছু কাজ অনুকরণ বা স্বয়ংক্রিয় করে না, বরং এটি মানুষের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষমতাও বাড়াতে পারে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই সরকারি কাজে ব্যবহৃত পরিভাষাতেও এই নতুন প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরা উচিত বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আদেশের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপাতত দেশটির আইনে থাকা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র সংজ্ঞাই ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে। এই সংজ্ঞা মার্কিন আইনের ১৫ নম্বর শিরোনামে রয়েছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারীকে ৬০ দিনের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর জন্য নতুন একটি সরকারি সংজ্ঞা তৈরির প্রস্তাব কংগ্রেসে জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশও করতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে একটি বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। এতে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিকে মানবজাতির জন্য একটি অভূতপূর্ব নতুন যুগের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয়—সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে বড়। এটি ইন্টারনেটের চেয়েও অনেক বড়। এটি আমাদের দেশের জন্য এক অসাধারণ অগ্রগতি।’
বৈঠকের পর প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি নিরাপদে উন্নয়নের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। এ বিষয়ে মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ‘আমরা আমেরিকার জনগণ ও আমাদের গ্রাহকদের এই নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, প্রযুক্তিটি আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবে।’
অ্যানথ্রোপিকের সিইও ডারিও আমোডি বলেন, নিরাপদভাবে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও বৈঠকে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে নিরাপদে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আলোচনায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জে ক্লেটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন