প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাহিদ আল হাসান। ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। আবার কখনো তিনি দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) পরিচয়েও প্রতারণা করতেন।
রাজধানীর ভাটারা থানার পুলিশ জানান, জাহিদ মূলত ইঞ্জিনিয়ার পরিচয়ে আত্নপ্রকাশ করতেন। তবে তাঁর কাছে কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রি নেই। প্রতারণার উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের সঙ্গে এআই ও ফটোশপে তৈরি প্রচারণার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করতেন।
তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ও ভুয়া ছবি ব্যবহার করে বসুন্ধরা গ্রুপের বিভিন্ন প্রকল্পে দোকান বরাদ্দ এবং বালু ভরাটের কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ফটোশপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবারের সদস্য এবং দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিজস্ব ছবি তৈরি করতেন জাহিদ। এভাবে সে প্রতারণা করতেন। সোমবার (১ জুন) খিলক্ষেত থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া, গত ২৬ মে ৫৫ বছর বয়সী ফাইজুল হক নামে একজন ভুক্তভোগী জাহিদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।
ভাটারা থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাহিদ আল হাসান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিলেন। বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, তিনি কখনো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে, কখনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। জুবাইদা রহমানের সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহার করে (এআই) বানানো ছবি প্রচার করে তিনি অনেকের কাছে নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি জাহিদ বিভিন্ন সময়ে নিজেকে বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবেও পরিচয় দিতেন। কখনো পিএ, কখনো নির্বাহী পরিচালক পরিচয় ব্যবহার করতেন। আলাদা পরিচয় তৈরি করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছিলেন।
ভুক্তভোগী ফাইজুল হকের অভিযোগে জানা যায়, জাহিদ বসুন্ধরা গ্রুপের ‘বাজার প্রতিদিন’ প্রকল্পের অন্তত ১৫টি দোকান বরাদ্দের নামে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। শহরের বিভিন্ন প্রকল্পে বালু ভরাটের কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে জামানত হিসেবে টাকা নেন। এভাবে তিনি কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তিন কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতারণার টাকা দিয়ে গাড়ি কেনার অভিযোগ উঠেছে। বাড্ডা থানার বাসিন্দা ও প্রতারণার শিকার কামাল খান বলেন, জাহিদ আগে মোটরসাইকেলে চলাফেরা করত কিন্তু পরে প্রাইভেট কার কেনে। জাহিদকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন কেন মোটরসাইকেল ব্যবহার করে, জাহিদ জানায় নিরাপত্তার কারণে।
ফাইজুল হক বলেন, জাহিদ আমাকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে বিশ্বাস করায়, সে বসুন্ধরা গ্রুপের কোনো বড় কর্মকর্তা। তিনি জানান, অক্টোবর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দফায় টাকা দেন। পরবর্তীতে কোনো কাজ না পাওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ হয়।
মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ভাটারা থানার পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খিলক্ষেত থানাধীন এলাকা থেকে জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাটারা থানার ওসি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ফাইজুল হকের মতো আরো অনেক ভুক্তভোগী রয়েছেন ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোবাসশীর রহমান জানান, জাহিদ আল হাসানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাকে আদালতে পাঠিয়ে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে, সেইসঙ্গে তার মাধ্যমে আরো কেউ প্রতারিত হয়েছেন কিনা সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন