প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আবারও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে তাঁর চিকিৎসক জানিয়েছেন ট্রাম্পকে ‘চমৎকার স্বস্থ্যের’ অধিকারী, সেখানে এক মার্কিন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ প্রেসিডেন্টের কিছু দৃশ্যমান শারীরিক উপসর্গ ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জোনাথন রেইনার ২৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেছেন।
ডা. রেইনারের মতে, ট্রাম্পের কিছু দৃশ্যমান উপসর্গ এবং শারীরিক পরীক্ষা নিয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের হাতে কালশিটে দাগের বিষয়টিও তাঁর আলোচনায় এসেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘন ঘন হাত মেলানো এবং অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে এসব কালশিটে হতে পারে। তবে ডা. রেইনারের প্রশ্ন, ট্রাম্পের বাঁ হাতে কি একই ধরনের বিবর্ণতা দেখা যাওয়াকে শুধু এসব কারণ দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় কি না।
ট্রাম্পের পা ফুলে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই চিকিৎসক। হোয়াইট হাউসের এক চিকিৎসক এটিকে ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি’ বা দীর্ঘস্থায়ী শিরাগত অপ্রতুলতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত ফিরিয়ে নিতে শিরাগুলোর সমস্যা হয়।
ডা. রেইনারের প্রশ্ন, মে মাসে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে পা ফুলে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ না থাকলে পরে দেখা দেওয়া সমস্যাটিকে কীভাবে ওই রোগ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হলো।
জনসমক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের জেগে থাকতে কষ্ট হচ্ছে বলেও মনে হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ডা. রেইনার। তিনি এটিকে অতিরিক্ত দিনের বেলা ঘুমঘুম ভাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনও হতে পারে।
গত মে মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ট্রাম্পের চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা জানিয়েছিলেন, ৮০ বছরের বয়সী ট্রাম্প এখনো ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী। তাঁর ব্যস্ত কর্মসূচি ও শারীরিক কর্মকাণ্ডও সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন উঠেছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে তাঁর হৃদ্যন্ত্র ও পেটের উন্নত ইমেজিং পরীক্ষা নিয়ে। ট্রাম্পের চিকিৎসকের বক্তব্য ছিল, সম্ভাব্য সমস্যা আগেভাগে শনাক্ত করা এবং তাঁর সামগ্রিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য এসব পরীক্ষা করা হয়েছিল।
কিন্তু ডা. রেইনার জানতে চেয়েছেন, এত বিস্তৃত পরীক্ষা কেন করা হয়েছিল এবং জনসাধারণকে এর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি কেন।
তবে প্রেসিডেন্টের সব চিকিৎসা তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন না ডা. রেইনার। তিনি স্বীকার করেছেন, কিছু তথ্য প্রকাশ করা হলে তা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এর পরিবর্তে তিনি সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী কংগ্রেসের একটি স্বাধীন প্যানেল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্যানেল প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা মূল্যায়ন করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।
ডা. রেইনারের মতে, মূল প্রশ্নটি প্রেসিডেন্টের সম্পূর্ণ চিকিৎসা নথি জনগণের জানার অধিকার আছে কি না, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, বিপুল ক্ষমতার অধিকারী দেশের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিক ও চিকিৎসাগতভাবে সক্ষম কি না, সে বিষয়ে ভোটাররা কতটা নিশ্চিত হতে পারছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন