প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া এলাকার একটি রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করে গেছেন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল।
বাগান পরিদর্শন শেষে, তারা বাংলাদেশে উৎপাদিত নিরাপদ আমের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে, তারা বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।
জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, ‘জাপানে আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জাপানে আম আমদানির উদ্দেশ্যে তারা বাংলাদেশে জাপানের দূতাবাসের আমন্ত্রণে রাজশাহী ও নওগাঁ অঞ্চলে রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শনের জন্য এসেছেন। বর্তমানে, জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির বিভিন্ন পর্যায় যাচাই-বাছাই চলছে। সব কিছু ঠিক থাকলে জাপান বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম গ্রহণ করবে।’
জাপানি প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, জাপানি ব্যবসায়ী সাকাকিবারা, ইশিমটু, ও শিগিমরি। এছাড়া, পরিদর্শনের সময় জাপানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশি আম রপ্তানিকারক আবু সাঈদও ছিলেন।
জাপানি প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রপ্তানিযোগ্য আম বাগান পরিদর্শন সহ, তারা কয়েকটি জেলায় আম গ্রেডিং, শর্টিং ও শোধনকেন্দ্র পরিদর্শনও করছেন। পরিদর্শন শেষে, তারা বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে বাগান মালিক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে খুশির আবহচ্ছন্ন হয়েছে।
পোরশার বন্ধুপাড়া এলাকায় ৫০ বিঘা জমি জুড়ে গড়ে তোলা ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মে আমবাগান পরিদর্শন শেষে, জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, উত্তম কৃষিচর্চার (গ্যাপ) মাধ্যমে এই বাগানে চাষ করা আম দেখেই তাদের সন্তুষ্টির ভাব ফুটে ওঠে। এই আম তারা তাদের দেশে রপ্তানির ব্যাপারে আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।
জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ওই বাগানের আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো সহ বিভিন্ন জাতের আমগাছগুলো ঘুরে দেখেছেন। এছাড়া, আম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কেও তারা খোঁজ-খবর নেন। বাগান পরিদর্শনের সময়, ফার্মটির মালিক রায়হান সিদ্দিক ছাড়াও, স্থানীয় আমচাষী আকরাম হোসেন, শহিদুল, সালাউদ্দিন, পোরশা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
ফার্মের মালিক রায়হান সিদ্দিক বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে নওগাঁ থেকে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আম যাচ্ছে। গত বছর থেকে চীনের বাজারে আম রপ্তানি শুরু হয়েছে। তবে এ বছরই প্রথম জাপানের বাজারে দেশের আম রপ্তানির এক বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হলো। যদি জাপানে আম রপ্তানি শুরু হয়, তবে দেশের আমচাষিরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন।’
আরেক আমচাষী সালাউদ্দিন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আম কিনতে জাপানের ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন, এটি আমাদের মতো কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত খুশির খবর। যদি কোনো তৃতীয়পক্ষ (মধ্যস্বত্বভোগী) ছাড়া সরাসরি বাগান থেকে জাপানে আম রপ্তানি করা সম্ভব হয়, তাহলে আমাদের মতো প্রান্তিক চাষীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।’
পোরশা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘নিরাপদ আম উৎপাদনে আমরা কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি। উত্তম কৃষিচর্চা অনুসরণ করে তৈরি করা নিরাপদ আমের উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে দেখার জন্য ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতের নির্দেশনায়, জাপানের এই ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলটি পোরশার বন্ধুপাড়ার বাগানটি পরিদর্শন করেছে। এখানকার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তারা সন্তুষ্ট হয়েছেন।’
স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আম বাগান থেকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন