প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার উদ্দেশ্যে ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স অটোমেশন সফটওয়্যারের ‘সফট লঞ্চ’ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জিসিসির নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি এই অটোমেশন সফটওয়্যারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার।
নতুন ডিজিটাল সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার জন্য সভাপতিত্ব করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম।
ডিজিটাল সেবা চালুর ফলে নগরবাসী ঘরে বসেই হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন, প্রয়োজনীয় তথ্য জমা, ফি প্রদানসহ আনুষঙ্গিক পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স সুবিধা নির্বিঘ্নে পৌঁছে দিতে এ ডিজিটাল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এটি জিসিসির সেবাব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সেবাও অনলাইন প্রসেসের আওতায় আনা হবে, যা নাগরিকদের সময় ও অর্থ বাঁচানোর পাশাপাশি ভোগান্তি কমাবে।
সভাপতি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম বলেন, সঠিক হোল্ডিং ম্যাপিং এবং তথ্যভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে সংস্থাটি কাজ করছে। তিনি বিদ্যমান কারিগরি ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ সমাধান করে ভবিষ্যতে অন্যান্য সেবাসহ প্রয়োজনে মোবাইল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সংস্থাটির হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ, পানির বিল, ইজারার অর্থ ও মার্কেট ভাড়াসহ সব লেনদেন ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর অধীনে এটুআইয়ের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’কে সিটি কর্পোরেশনের সফটওয়্যারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর ফলে নাগরিকরা মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন বা এজেন্ট ব্যাংকিং এবং কার্ডের মাধ্যমে যে কোনো স্থান থেকে নিরাপদে ফি পরিশোধের সুবিধা পাবেন। ইতোমধ্যে পানির বিল ‘একপে’র মাধ্যমে সংগ্রহের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থ নিয়মিত অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে জমা হচ্ছে।
নতুন এ অটোমেশন সিস্টেমে রয়েছে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ, ডাটা বিশ্লেষণ, অনলাইন পেমেন্ট ও ডিজিটাল রসিদের ব্যবস্থা, নোটিফিকেশন প্রদান এবং সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ সুবিধা। এর ফলে সরাসরি অফিসে আসার প্রয়োজনীয়তা কমবে এবং দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদান সম্ভব হবে।
স্পেকট্রাম আইটি সলিউশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন সফটওয়্যারের কারিগরি রূপরেখা উপস্থাপন করেন।
এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এটুআই প্রকল্পের চিফ অ্যাডভাইজার মাসুদুর রহমান, জিসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার এবং কর নির্ধারণ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম পাঠান।
এ সময় প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল বারেকসহ কারিগরি দল ও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন