প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমান টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।
সরকার প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমানভাড়া সহনীয় রাখার উদ্দেশ্যে টিকিটের দুর্বৃত্তায়ন, কৃত্রিম সংকট এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যে ট্রাভেল এজেন্সি আইন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, বিমান টিকিটে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর এবং বিক্রয়মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে রবিবার (৩০ আগস্ট) প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই তথ্য প্রদান করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী আরও জানান, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০ দফাসম্বলিত একটি পরিপত্র জারি করেছে।
এই নির্দেশনার আওতায়, সব ট্রাভেল এজেন্সিকে বিমান টিকিটে তাদের নাম, লাইসেন্স নম্বর এবং টিকিটের বিক্রয়মূল্য স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ করতে হবে।
বিমানভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন খাতে সাধারণত ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় এয়ারলাইনসের আয় ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা কার্যকর থাকে। রুট, গন্তব্য, দূরত্ব, বুকিংয়ের সময়, যাত্রার তারিখ, আসন প্রাপ্যতা, এয়ারলাইনসের ধরন, আন্তর্জাতিক বাজারে এভিয়েশন জ্বালানির দাম, বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট চার্জ, সরকারি কর এবং অন্যান্য ফি বিবেচনায় নিয়ে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
এ কারণে একই রুটে সময়, চাহিদা এবং আসন প্রাপ্যতার পার্থক্যের কারণে বিমানভাড়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, তাই শুধুমাত্র একটি বা একাধিক সূচক বিবেচনা করে বিভিন্ন সময়ের বিমানভাড়ার তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
মন্ত্রী সংসদে প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বলাকা লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা, আলাদা ইমিগ্রেশন চ্যানেল এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক চেক-ইনের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, যাত্রীস্বার্থ রক্ষা এবং বিমান টিকিটের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন