প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
৪৫তম বিসিএসে কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন মীর তানভীর আহমেদ (২৯)। তিনি বর্তমান চাকরি ছেড়ে ক্যাডার পদে যোগদানের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পরিণতি হলো মর্মান্তিক মৃত্যুতে। নীলফামারীর ডোমারে রেললাইন থেকে গলাকাটা ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তানভীরের মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের শিমুলতলী সংলগ্ন রেলগেট এলাকা থেকে গলা থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থলের কাছে একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর বিচ্ছিন্ন মাথা। এই ভীষণ ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত মীর তানভীর আহমেদ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর এলাকার মীর বজলুর রশিদের ছেলে এবং তিনি ছিলেন পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তানভীর দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্মের গম গবেষণা কেন্দ্রের খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে কৃষি কর্মকর্তা পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ছিলেন। তিনি নতুন ক্যাডার পদে যোগ দিতে বর্তমান চাকরি থেকে পদত্যাগ করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমনকি এই মেধাবী তরুণের未来ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
কিন্তু রেললাইনে তাঁর এমন মৃত্যু কি স্বাভাবিক ট্রেন দুর্ঘটনা, তা নিয়ে পরিবার প্রশ্ন তুলেছে। তানভীরের বাবা মীর বজলুর রশিদ বলেন, দিনাজপুরে কর্মরত থাকার সময় কিছু দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ছেলের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
দাবি করা হচ্ছে যে, তানভীরের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ তাঁর অফিসে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি পুরো ঘটনার সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, স্বাভাবিকভাবে রেল লাইনে দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটলে এসব বিষয় কীভাবে ঘটেছে—তা তদন্তের মাধ্যমে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তানভীরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তানভীর। নতুন কর্মজীবনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণের এমন মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই ঘটনা নিছক ট্রেন দুর্ঘটনা কিনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা উদঘাটনে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে তানভীরের স্বপ্নভঙ্গের এই মর্মান্তিক পরিণতির পেছনের সত্য দ্রুত প্রকাশের অপেক্ষায় তাঁর পরিবার ও স্বজনরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন