প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেটিভ ইভেন্ট ২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার গাজীপুরে ডুয়েটের উপাচার্যের সভাকক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ‘স্ট্রেন্থেনিং স্টার্ট-আপ, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণাকে বাস্তবমুখী ও বাজার উপযোগী করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইউজিসি নীতিগতভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।"
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আরও জানান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ সংস্কৃতি বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "স্টার্টআপ সংস্কৃতি উন্নয়নে চলতি বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমি খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।" তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে জিডিপিতে ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, "তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে অর্থায়ন, পরামর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের গোলটেবিল আলোচনা শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।"
ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত সহযোগিতা ছাড়া গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ডুয়েট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে।"
তিনি বলেন, "কার্যকর একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা গড়ে তোলা গেলে দেশের উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব।" এ ধরনের আলোচনা তিন মাস পরপর আয়োজন করার এবং ছয় মাস পরপর ইউজিসিতে প্রতিবেদন দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা মানসিকতা তৈরি এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পকে বাণিজ্যিকীকরণের দিকে নেওয়া ডুয়েটের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে উদ্ভাবনী ধারণাকে পণ্যে রূপ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর নির্মাণ করা হয়েছে।"
প্যানেল আলোচনায় ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পখাতের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে ডুয়েটের গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন সুবিধা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান।
গোলটেবিল আলোচনায় বিডিরেন, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, নেসলে বাংলাদেশ, আকিজ সিরামিকস, উর্মি গ্রুপ, ম্যাক্স গ্রুপ, জেনকোর সল্যুশনস, ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসাল্ট্যান্টস, মাসকো গ্রুপ, ডিক্যাথলন, র্যাঙ্কন অটো ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরে শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে ‘দ্য ফিউচার অব ইয়ুথ ইন বাংলাদেশ ইন দ্য পারস্পেকটিভ অব অন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড সফট স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে জেনকোর সল্যুশনসের সিইও ও ডুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী জিশান আহাম্মদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন