প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মোটা ভাব কমানো এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য জনপ্রিয় ওষুধ ‘জিএলপি-১’ সেবনের মাধ্যমে চুলপড়ার সামান্য ঝুঁকি থাকতে পারে, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, যদিও এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, সার্বিকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও বেশ কমই রয়েছে।
সেমাগলুটাইড (যাহা ‘ওয়েগোভি’ এবং ‘ওজেম্পিক’ নামে পরিচিত) এবং তিরজেপাটাইডসহ (যাহা ‘জেপবাউন্ড’ এবং ‘মাউনজারো’ নামে পরিচিত) জিএলপি-১ রিসেপ্টর অগনিস্ট গ্রহণকারী রোগীদের ওপর পরিচালিত তিনটি পৃথক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, এই তথ্য পাওয়া গেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা সাময়িকী দ্য বিএমজে-তে প্রকাশিত পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দুই বা ততোধিক বছর জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহারকারীদের মধ্যে:
এসজিএলটি-২ জাতীয় ডায়াবেটিসের ওষুধ ব্যবহারকারীদের তুলনায় অ্যালোপেসিয়া (চুলপড়া রোগ) হওয়ার সম্ভাবনা ৩৭% বেশি।
ডিপিপি-৪ ইনহিবিটর ব্যবহারকারীদের তুলনা করলে এই ঝুঁকি ৬৮% বেশি হতে পারে।
যদিও এই হার বৃদ্ধি পেলেও মোট আক্রান্তের সংখ্যা খুব বেশি নয়। প্রতি ১,০০০ জনের মধ্যে প্রতি বছরে আনুমানিক ৩ থেকে ৯ জন নতুন করে এ সমস্যায় আক্রান্ত হন।
অন্যান্য গবেষণাতেও একই ধরনের তথ্য সমর্থিত হয়েছে।
আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির সাময়িকীতে প্রকাশিত বিশ্বজুড়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত অপর একটি গবেষণায় দেখা যায়, মেটফরমিন গ্রহণ করা রোগীদের তুলনায় জিএলপি-১ ব্যবহারকারীদের মধ্যে একাধিক ধরনের অ্যালোপেসিয়ার হার কিছুটা বেশি।
এছাড়া, ‘ইনফারেন্স’ নামক একটি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত তৃতীয় গবেষণায় তিরজেপাটাইড সেবনকারী ১১,০০০-এর বেশি রোগীর সঙ্গে সমসংখ্যার সেমাগলুটাইড ব্যবহারকারীর তুলনা করে দেখা যায়, নতুন করে চুলপড়ার হার:
তিরজেপাটাইড সেবনকারীদের ক্ষেত্রে ছিল ৪.২৪%,
সেমাগলুটাইড সেবনকারীদের ক্ষেত্রে ছিল ৩.৩৩%।
বিশেষভাবে নারীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট ভাবে দেখা গিয়েছে:
তিরজেপাটাইডে: ৫.৪৪%,
সেমাগলুটাইডে: ৩.৬৩%।
শুধুমাত্র কি ওজন কমার প্রভাব?
সাধারণভাবে দেখা যায়, দ্রুত বা খুব বেশি ওজন কমানোর কারণে সাময়িকভাবে চুলপড়ার সমস্যা হতে পারে, যা পরবর্তীতে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তবে গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, তিরজেপাটাইড ব্যবহারকারীদের জন্য চুলপড়ার এই অতিরিক্ত ঝুঁকি কেবল ওজন কমানোর পরিমাণ বা ওষুধের ডোজের ওপর নির্ভর করে না। অন্যান্য কারণও এর পেছনে জড়িত থাকতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের থাইরয়েডের সমস্যা অথবা অন্য কোনো হরমোনজনিত জটিলতা রয়েছে, তাদের মধ্যে অ্যালোপেসিয়ার প্রবণতা বেশি। এতে ধারণা করা হয়েছে যে, হরমোন অথবা অটোইমিউনজনিত বিভিন্ন কারণও এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সুতরাং, গবেষকরা চুলপড়াকে শুধুমাত্র দ্রুত ওজন কমানোর ফল হিসেবে গ্রহণ করার পরিবর্তে রোগীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য, পরামর্শ প্রদান এবং নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: সামা টিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন