প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য দল ঘোষণ করা হয়েছে গতকাল (২৬ জুলাই)। মহাগুরুত্বপূর্ণ সিরিজে বাংলাদেশ পাঁচটি পরিবর্তন এনেছে। নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম এবং লিটন দাসের ইনজুরি কারণে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই ইস্যুর প্রভাব দেখা গেছে। বেশকিছু প্রশ্ন উদ্রেককারী সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ (২৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলা যেকোনো দলের জন্য সাধারণত বাড়তি চ্যালেঞ্জের নির্দেশ করে। ২৩ বছর পর সেখানে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। এমন এক সিরিজের পূর্বে প্রধান ভরসা নাহিদ রানা ইনজুরিতে পড়েছে। ছিটকে গেছেন আরও ২ জন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়— লিটন দাস এবং শরিফুল ইসলাম। স্বাভাবিকভাবেই চোটের কারণে বাংলাদেশ বিশাল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। প্রধান নির্বাচক বাশার অকপটে এই কথা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, 'চোটের কারণে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, এটি সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। কেউ যদি দুটো টেস্ট না খেলতে পারলেও, অন্তত একটি টেস্ট খেলার জন্য অপেক্ষা করেছি, প্রধান খেলোয়াড়দের জন্য।'
চোটের কারণে দল সাজাতে নির্বাচক প্যানেলেরও সমস্যা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টের জন্য পূর্বনির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ পর দল ঘোষণা করতে হয়েছে নির্বাচকদের, 'আমরা দল ঘোষণ করতে চেয়েছিলাম সপ্তাহখানেক আগে। যে তিনটি ফরম্যাটের দল করি, টেস্টে সবচেয়ে স্যাটেল টিম। গত কয়েক সিরিজ ধরে তারা ভালো ফলও করেছে। এই সিরিজ নিয়ে আমরা সবাই উত্তেজিত ছিলাম। অস্ট্রেলিয়ায় তাদের বিপক্ষে শক্তিশালী দল। বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুতি বা যে রকম দল প্রয়োজন, সেই অবস্থায় ছিলাম।'
নাহিদের ইনজুরির ব্যাখ্যা
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে অনেকেই মনে করছেন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে অবহেলা হয়েছে। নাহিদ রানার মতো দারুণভাবে ছন্দে থাকা পেসারকে এই সিরিজে খেলানো টিম ম্যানেজমেন্টের 'ভুল' হয়েছে—এমন একটি মতামত তৈরি হয়েছে। আজ এটার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক।
প্রধান নির্বাচক বলেন, 'যখন আমরা কোনো খেলোয়াড় বেছে নিই, তখন মেডিকেল ডিপার্টমেন্টের কাছ থেকে এসেসমেন্ট চাই। বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট যারা করেন, তাদের মতামত নিই। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট মুখে নয়, ট্র্যাক করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে (ঘরের মাঠে সীমিত ওভারের সিরিজে) নাহিদ সব ম্যাচ খেলেনি। ব্রেক দিয়ে খেলানো হয়েছে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট অনুযায়ী হারারে টেস্টে সে ফিট ছিল। পরে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কথা ভেবে হারারে টেস্ট খেলানো হয়নি।'
'ইনজুরির ভয়ে তাদের হারারে টেস্ট খেলানো হয়নি। ওয়ানডেতে নাহিদ তিন ম্যাচের মধ্যে দুটি খেলেছে। ওয়ানডে সিরিজে র্যাঙ্কিংয়ের বিষয় ছিল। টি-টোয়েন্টিতে আমরা ব্রেক দিতে পারতাম। তবে ওয়ার্কলোড যারা ম্যানেজ করেন তারা বলেন দুটো ব্যাপার আছে—ফাস্ট বোলারের রেড, গ্রিন, ইয়েলো জোন আছে। বেশি বোলিংয়ের লোডে রেডে চলে যায়, আবার কম বল করলেও রেডে চলে যায়।'
'তাকে যথেষ্ট ওভার বল করে গ্রিন জোনে থেকে টেস্ট খেলতে হতো। ফাস্ট বোলারদের না খেলিয়ে বসিয়ে রাখা ভালো নয়। যেকোনো ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ বল করে প্রস্তুত হতে হয়। বেশি বল করলেও ঝুঁকি থাকে, আবার কম বল করলেও রেড জোনে চলে যায়। না খেললে কিছু হতো না, তবে তাকে কিছু একটা খেলতেই হতো।'
বাশার আরও বলেন, 'এই চোট অস্ট্রেলিয়া গিয়েও হতে পারত। একজন ফাস্ট বোলারকে যত চেষ্টা করুন, ইনজুরিমুক্ত রাখা কঠিন। ইনজুরি হবে না এটি আসলে কঠিন, যতই চেষ্টা করা হোক। তবে আমরা প্রচুর মেইনটেইন করে যাচ্ছি। তার প্রতিটি মুহূর্তে খুব যত্ন নেওয়া হচ্ছে।'
দল নিয়ে আশাবাদী প্রধান নির্বাচক
দলের মূল ৩ জন ক্রিকেটার না থাকলেও প্রধান নির্বাচক এই দল নিয়ে আশাবাদী, 'নাহিদ বিশেষ বোলার। সে সেনসেশনাল স্পেশাল বোলার। তাকে পাওয়ার বিশাল আক্ষেপ থাকবেই। তবে দেখুন, সর্বশেষ অ্যাশেজে প্যাট কামিন্স খেলেনি। তারা তো বলছেন না যে প্রধান বোলার নেই। মূল বোলার না থাকলে আক্ষেপ করতে গেলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। যারা আছেন... তাসকিন অসাধারণ, ফিট থাকলে। হাসানকেও সবাই দেখেছেন। খালেদ-ইবাদতও অতীতে খুব ভালো করেছে। এই কয়েকজনেই এগোতে হবে। আক্ষেপ তো থাকবে, কিন্তু এখানে পড়ে না থেকে সামনে এগোতে চাই।'
তিনি আরো বলেন, 'স্পোর্টসে আপনি সবসময় সকলকে পাবেন না। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবসময় কিছু হবে এমন নয়। আমাদের জন্য যে বিষয়টা তা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, হতাশাজনকও। তবে আমরা সম্ভাব্য সেরা দল নিয়েই যেতে হবে। ইনজুরি হলে তো কিছু করার নেই। বেশি চিন্তা এখন ছেড়ে দিতে চাই। যেহেতু দল ঘোষণা করেছি, যারা ছিল তাদের নিয়েই সম্ভাব্য সেরা দল গড়েছি। আমি আশাবাদী এই দল নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো করব।'
৫ বছর পর দলে সৌম্য, কেন ফিরলো জাকের?
২০২১ সালে সর্বশেষ সাদা জার্সিতে সৌম্য কোনো ম্যাচ খেলেছে। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও তেমন রান পাননি। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে চমক হিসেবে স্কোয়াডে রাখা হলো সৌম্য সরকারকে। এর ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক বলেন, 'সৌম্য অনেক দিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে। যেই পেসটা আমরা অস্ট্রেলিয়াতে প্রত্যাশা করছি, সেটা খেলে সে অভ্যস্ত। আমরা অন্য ওপেনারের কথাও ভেবেছি। দুর্ভাগ্যবশত বর্তমানে আমাদের ডানহাতি ওপেনার খুব বেশি প্রস্তুত অবস্থায় নেই।'
এই সিরিজের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পরে আবারও জাতীয় দলে ফিরেছে জাকের আলী। তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বাশার বলেন, 'জাকের আলী কিন্তু টেস্ট ম্যাচ খেলছিল, খারাপ খেলছিল না। তিনি যখন দল থেকে বের হয়ে গেছেন তখন ফর্ম নিয়ে লড়াই করছিল। আমাদের ইচ্ছা ছিল (হাই পারফরম্যান্সের) খেলাগুলো খেলে আবার ফিরে আসুক, কারণ তাঁর মানসিক অবস্থাও খুব ভালো ছিল না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন