প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, আন্দোলনের নামে ভারতকে পাকিস্তান-বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এর আগে এমন চেষ্টা সফল হয়নি, এবং এবারও হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কলকাতার রাজারহাট-নিউটাউনে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখী হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্যটি করেন।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে গত কিছুদিন ধরেই ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। 'কাকরোচ জনতা পার্টি'র ব্যানারে এই আন্দোলন ভারতের রাজধানীতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের ‘বিদেশি শক্তির পেশাদার পুতুল’ হিসেবেও উল্লেখ করে দিলীপ ঘোষ জানান, ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
বিজেপির এই নেতা আরও বলেন, যে বিশিষ্ট চরিত্রগুলো বর্তমানে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা কয়েক বছর ধরে একই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কিছু লোক বর্তমানে চুপ থাকলেও, তারা ধীরে ধীরে সামনে আসবে। তিনি বলেন, 'আন্দোলনজীবী' নামধারী কিছু লোক সহজ-সরল মানুষকে সামনে রেখে বারবার দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। তাদের সহজ লক্ষ্য হলো পার্লামেন্টের অধিবেশন। ওই সময় সেখানে গণমাধ্যমের ও জনগণের নজর বিশেষভাবে থাকে, তাই তারা সেই সুযোগটি বেছে নিচ্ছে।
তারপর দিলীপ ঘোষ বলেন, এসব লোক অনেক চেষ্টা করেছে ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো বানাতে। তবে, তারা সফল হয়নি এবং এবারও হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনকারীদের পরিণতি কৃষক আন্দোলনের মতো হবে। একই ব্যক্তি—যারা কৃষক আন্দোলনে সক্রিয়, তারাই ছাত্র আন্দোলন ও নারী আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে।
বিদেশি শক্তির সাহায্যের অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা জানান, এই আন্দোলনকারীরা বিদেশি শক্তির পেশাদার কাঠের পুতুল। সুতরাং, তারা কিছুটা উৎপাত তো অবশ্যই করবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ভুলে যাবেন না, সরকারটি নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আন্দোলনকারীরা সুস্পষ্টভাবে চায় সরকার কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক, আর তখন সেটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সারা দেশে পুনরায় অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
আন্দোলনকারীদের বিদেশের দালাল বলে তীব্র কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, তাদের পেছনে বাংলাদেশের মানুষ নেই, জনতাও নেই। এ কারণে তারা বারবার নির্বাচনে পরাজিত হচ্ছে। কিছু 'দালাল টাইপের' লোক বিদেশের স্বার্থ রক্ষার কাজে লিপ্ত রয়েছে এবং সামনে এসে লাফাচ্ছে। সাধারণ জনগণ তাদের চিনে ফেলেছে। প্রথমে যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, সেই সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এখন বুঝতে পেরেছে যে তাদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এই আন্দোলনজীবীরা বিদেশের টাকায় উসকানিমূলক কাজ করে দেশে উৎপাত সৃষ্টি করছে। তবে, তাদের দিন প্রায় শেষের দিকে। ছাত্রদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তারা বারবার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেছে, তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—যাতে কেউ এই ধান্দাবাজদের ফাঁদে না পড়ে।
রাহুল গান্ধী ও বিরোধী নেতাদের প্রতি আক্রমণ করে তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী এর আগে মোদীজির মা সম্পর্কে কী বলেছেন, তা সবার জানা। এখন যেসব নেতা বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের কোনো সংকোচ নেই। কারণ তাদের সংসার চলে অন্যের টাকায়। এরা তো শুধু অন্যদের মাইকের স্পিকার হিসেবে কথা বলে। অনেক বিদেশি শক্তি রয়েছে, যারা ভারতের উন্নয়ন ও ঐক্য চায় না। তারা এদের দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন