প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের সময় কৃষকদের সুরক্ষায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
লাউডস্পিকার ও থার্মাল (তাপ শনাক্তকারী) ক্যামেরাযুক্ত এসব ড্রোন আকাশে উড়ে কৃষকদের সতর্কবার্তা প্রদান করছে। তারা বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে এবং অতিরিক্ত গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি দূর করতে কাজ করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি। দেশটির কৃষিপ্রধান উত্তর গিয়ংসাং (নর্থ গিয়ংসাং) প্রদেশে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়াং তাপপ্রবাহকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত তাপপ্রবাহের কারণে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রদেশটির ড্রোনগুলোতে লাউডস্পিকার ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা রয়েছে, যা মাঠের উপর দিয়ে উড়ে কৃষকদের উদ্দেশে বারবার সতর্কবার্তা প্রচার করছে। বার্তাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—‘একটানা বেশি সময় কাজ করবেন না’, ‘তাপপ্রবাহের সতর্কতা চলছে, সাবধানে থাকুন’ এবং ‘বিরতি নিন, শরীর ঠান্ডা রাখুন’।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ মাইক থেকে সতর্কবার্তা প্রচারের ব্যবস্থা থাকলেও সেই বার্তা অনেক কৃষকের কান পর্যন্ত পৌঁছায় না।
ড্রোন ব্যবহারের ফলে দুর্গম কৃষিজমিতে সহজেই সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া থার্মাল ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে কোন এলাকায় বেশি তাপমাত্রা বা ঝুঁকি রয়েছে।
এই মজার বিষয় হচ্ছে, ড্রোনগুলো মূলত ২০২৩ সালে কোয়ারিয়া ফরেস্ট সার্ভিসের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল, কিন্তু গত বছর থেকে কৃষকদের সতর্ক করার জন্য ব্যবহার শুরু হয়।
প্রদেশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দিনের দুইবার ড্রোন উড়িয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার কৃষিজমি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ড্রোন পাঠিয়ে সরাসরি সতর্কবার্তাও প্রচারিত হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, দক্ষিণ কোরিয়ার মোট কৃষক পরিবারের ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে বাস করে, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। এসব পরিবারের প্রায় ৫৯ দশমিক ২ শতাংশের কৃষক বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ফলে তাপপ্রবাহে তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
৬৯ বছর বয়সী কৃষক হোয়াং হিউন-গুক জানিয়েছেন, এবারের গরম আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তাই তিনি মাঠে কাজের সময় কমিয়ে দিয়েছেন এবং কাজের চাপ সামলাতে দুজন অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। তার মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণেই এ বছর তাদের ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলে শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেড়ে চলা তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় ড্রোন প্রযুক্তির এই ব্যবহারের নীতিটি ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও গৃহীত হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন