প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও ফিফার অফিসিয়াল মার্কেটপ্লেসে টিকিট বিক্রি করা অনেক সমর্থক এখনও তাদের পাওনা অর্থ পাননি। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, টিকিট বিক্রির ৬০ দিনের মধ্যে বিক্রেতাকে অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ২৫ বছর বয়সী আরিক শালমিয়েভ জানিয়েছেন, ফিফার টিকিট মার্কেটপ্লেসে তিনি তিনটি টিকিট বিক্রি করেছেন এবং তার পাওনা ১৫ হাজার ডলারের বেশি। কানসাস সিটির কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট বিক্রি করে তিনি ফিফার ফি কাটার পর ১০ হাজার ডলারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও সেই অর্থ তিনি পাননি।
শালমিয়েভের মতো আরও অনেক সমর্থক একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে ফিফা জানিয়েছে যে অর্থ ফেরত পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তা ব্যাংক হিসাবে পৌঁছায়নি। আবার কারও কাছে ব্যাংক তথ্য নিয়ে সমস্যা থাকার কথা বলা হয়েছে।
ফিফার ২০২৬ বিশ্বকাপের রিসেল ও এক্সচেঞ্জ মার্কেটপ্লেসে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ করে ফি নেওয়ার নীতি ছিল। সফলভাবে টিকিট বিক্রির পর ৬০ দিনের মধ্যে বিক্রেতাকে অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ফিফা জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক লেনদেনের কারণে কিছু অর্থ ফেরত দিতে বেশি সময় লাগছে।
ফিফার এক মুখপাত্র বলেছেন, বকেয়া পেমেন্ট ও রিফান্ডের বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে তাদের সংশ্লিষ্ট দল কাজ করছে। কিছু ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল যাচাই, অতিরিক্ত তথ্য কিংবা মূল পেমেন্ট পদ্ধতিতে অর্থ ফেরত পাঠাতে সমস্যা থাকার কারণে দেরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ফিফা।
এদিকে টিকিট বিক্রেতাদের অনেকেই ফিফার কাস্টমার সার্ভিস নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। টেক্সাসের রবার্ট ফোরস্টার জানিয়েছেন, লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার ম্যাচের দুটি টিকিট বিক্রি করে তার পাওনা ৩ হাজার ডলারের বেশি। ফিফার কাছ থেকে অর্থ পাঠানোর ই-মেইল পেলেও তার হিসাবে এখনও টাকা জমা হয়নি।
বিশ্বকাপের টিকিট ব্যবস্থা নিয়ে এর আগে সমালোচনা হয়েছে। টিকিটের উচ্চমূল্য, আসনের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং রিসেল প্ল্যাটফর্মের ফি নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলও ফিফার টিকিটিং প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ফিফা বলছে, যেসব লেনদেন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দুই মাস পরও টাকা না পাওয়া সমর্থকদের কাছে অপেক্ষাটা ক্রমেই হতাশার হয়ে উঠছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন