প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথ।
জেমাইমা এক পোস্টে উল্লেখ করেন, পাকিস্তান সরকারকে দেশের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
তিনি ইমরানের চিকিৎসার সুযোগ, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দীর্ঘদিনের একাকী বন্দিত্বের অবসান দাবি করেন।
জেমাইমা যুক্তরাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, "যুক্তরাজ্য আর কত দিন নীরব থাকবে?" তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির কাছে ইমরানের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
জেমাইমার অভিযোগ, ইমরানকে প্রায় তিন বছর ধরে একাকী বন্দী রাখা হয়েছে। প্রায় ১০ মাস ধরে তার পরিবারের সদস্যদেরও ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি দাবি করেন, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা বিধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে টানা ১৫ দিনের বেশি একাকী বন্দিত্ব নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জেমাইমা আরো জানান, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে চিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা, পরিবারের নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং দুই ছেলের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এসব নির্দেশনা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইমরানের দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমও বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেমাইমা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করেও তারা এখনো কোনো উত্তর পাননি বলে দাবি করেন।
তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইমরানের দুই ছেলের বিদেশি পাকিস্তানিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে, যার মাধ্যমে ভিসা ছাড়াই পাকিস্তানে প্রবেশ করা যায়।
তবে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তা নবায়ন করা হয়নি।
গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাকে সেখানে না নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে আবার আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে দুর্নীতির একটি মামলায় তিনি আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন। এর আগে গত ২৬ মার্চ জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে কাসিম খান তার বাবার মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন