প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করেছেন, সেই প্ল্যাটফর্মটি এখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের দমনপীড়নের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও বলপ্রয়োগের বিভিন্ন ভিডিও ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও টিকটকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওগুলো তরুণদের কাছে মিম, রিলস ও বিভিন্ন সৃজনশীল কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন করে প্রচারিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, এটি তাদের আন্দোলনের সরাসরি সম্প্রচার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সংগঠন কাকরোচ জনতা পার্টি সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে। সংগঠনটির তিনটি দফা দাবির মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক লাখ পাঁচ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, আন্দোলনের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, ধাতব পেলট এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। যদিও পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে আন্দোলনকারীদের ধারণা করা অসংখ্য ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গেছে। রাজ্যের অন্যান্য স্থান যেমন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ এবং আইজিতেও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তরুণরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে মিম, অ্যানিমে, কমিকস এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা উপাদান ব্যবহার করছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক তরুণকে স্পাইডার ম্যান, আয়রন ম্যান অথবা হাল্কের পোশাকে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার জাপানি অ্যানিমে ওয়ান পিসের ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে।
তরুণদের দাবি, অতীতে সরকারকে সমালোচনা করতে গেলেই যে ভয় কাজ করত, এখন সেই ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। তারা ইউটিউব এবং মূলধারার গণমাধ্যমের পরিবর্তে নিজেদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে ঘটনাগুলো বিশ্বজুড়ে তুলে ধরছেন।
ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনের প্রভাব বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে না। সেইসাথে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের কথাও বলেন।
তবে মোদীর এই বক্তব্যের পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছবির ওপর মোদীর মন্তব্য ব্যবহার করে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রকাশ করেছেন। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়, "হাই, আমার নাম গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।" আল জাজিরার মতে, ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং ব্যঙ্গের সমন্বয়ে ভারতের তরুণ প্রজন্ম এমন এক ডিজিটাল আন্দোলন গড়ে তুলেছে, যা সরকারের জন্য নতুন ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন