প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুষ্টিয়া জেলখানা থেকে পলাতক ১২৪টি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাত মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আনিছুর রহমানকে কুমারখালী থানার পুলিশ পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ‘বিশ্বাস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি এনজিও খুলে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আছেন।
গ্রেপ্তারটি বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানার এলাকা থেকে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আনিছুর রহমান কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের পুত্র। ২০০৬ সালে আলাউদ্দিন নগর এলাকায় ‘বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন।
কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক সোহাগ শিকদারের নেতৃত্বে, এএসআই শরিফুল ইসলাম ও কনস্টবল রাশেদুল ইসলামের সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও র্যাবের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ, স্থানীয় জনগণ এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, কয়েক বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় আনিছুর কয়েকশ শাখা খোলা হয়। তিনি দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদী ডিপিএসের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা জমা নেন। এক পর্যায়ে কয়েকশ কোটি টাকা জমা হলে তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি, গাড়ি সহ সম্পদের পাহাড় গড়েন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে কর্মীরা টাকার জন্য চাপ দিলে আনিছুর অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান। ২০২৪ সালের শুরুতে কুষ্টিয়া ও অন্যান্য আদালতে আনিছুর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার প্রায় ১২৪টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে ১২টি মামলায় তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালানোর সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলখানায় পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে আনিছুরসহ ১০৪ জন আসামি পালিয়ে যান।
এই ঘটনার পরদিন সকাল থেকে কুমারখালী থানায় ভুক্তভোগীরা ভিড় করতে শুরু করেন। পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করে।
ভুক্তভোগী শিলাইদহের জাহানারা খাতুন জানান, চাকরির বেতন, বোনাস, জমির ইজারা, গরু-ছাগল বিক্রির মাধ্যমে মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকা আনিছুর কাছে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "সব মেরে দিয়ে চলে গেছে। এনজিওর নামে আনিছ টাকা আত্মসাত করেছে।"
আনিছের ভাগনি বিনা খাতুন বলেন, দ্বিগুণ লাভের আশায় মামার কাছে ৩ লাখ টাকা রেখেছিলাম। এখন সব শেষ। তিনি বলেন, "হয় টাকা ফেরত দিক, না হলে ওর ফাঁসি হোক।"
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সুকৌশলে আনিছ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আদালতে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গত ২৪ সালের ৭ আগস্ট জেল থেকে পালিয়ে যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ফের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন