প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানি নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ব্যবহার কমানোর জন্য। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে দেশটিতে চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর একটি বিশেষ কর কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম চিনিযুক্ত পানীয় তৈরিতে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ‘চিনি কর’ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম আরএনডির কাছে পৌঁছানো খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানীয়তে যদি চিনির পরিমাণ অন্তত ৫ গ্রাম হয়, তাহলে প্রতি লিটারে ২৬ সেন্ট কর দিতে হবে। আর যদি চিনির পরিমাণ ৮ গ্রাম বা তার বেশি হয়, তাহলে প্রতি লিটারে করের পরিমাণ ৩২ সেন্ট হবে। এই প্রস্তাবটি বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল এই উদ্যোগের পক্ষে রয়েছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর আরোপের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং পানীয় প্রস্তুতকারকেরা চিনির পরিমাণ কমাতে উৎসাহিত হবেন। এর ফলে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর পানীয়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে।
সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন এই কর থেকে ২০২৭ সালে প্রায় ৬৯ কোটি ইউরো এবং ২০২৮ সালে ৯২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো রাজস্ব আয় হতে পারে।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে শুরু থেকেই মতপার্থক্য বিদ্যমান ছিল। জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে চ্যান্সেলরের দপ্তর ক্লিংবাইলের পূর্বের প্রস্তাব আটকে দিয়েছিল। কনজারভেটিভ ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের কিছু রাজ্য পর্যায়ের নেতা এই করের বিরোধিতা করেছেন। তাদের যুক্তি হচ্ছে, নতুন করের ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ আরও জোরালো হবে।
চিনির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনাও বিদ্যমান। সংস্থাটির সুপারিশ অনুযায়ী, একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক ওজনের প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম চিনি গ্রহণ করা উচিত। তবে স্বাস্থ্যগত সুফল বাড়ানোর জন্য এই পরিমাণ ২৫ গ্রামের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ছয় চা-চামচ চিনির সমান।
কিন্তু জার্মানিতে চিনির দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ এই সুপারিশের চেয়ে অনেক বেশি। দেশটিতে পুরুষেরা গড়ে প্রতিদিন ৭৮ গ্রাম এবং নারীরা ৬১ গ্রাম চিনি গ্রহণ করেন। চিনির অন্যান্য উৎসও হিসাবের মধ্যে আনলে কারও কারও দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্তকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সরকার। তবে নতুন করের ফলে পানীয়ের দাম কতটা বাড়বে এবং উৎপাদকেরা চিনির পরিমাণ কমাতে কতটা উদ্যোগী হবেন, তা প্রস্তাবটির চূড়ান্ত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন