প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, "ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।"
তিনি বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের "শুভারম্ভ ফলক" উন্মোচন অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা আ.লীগের অস্থিরতা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আপনারা ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।"
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত জায়গায়, একটি প্রপার লোকেশনে। সেই স্বপ্ন আজকে আমাদের পূরণ হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৪৫ একর অর্থাৎ প্রায় ১১ বিঘার মতো জায়গা বরাদ্দ পেয়েছি আনসারের সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য। আমরা এখানে আনসারের সদর দপ্তর নিয়ে আসার জন্য একটি বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করব। এত বড় আনসার-ভিডিপির মতো একটি ফোর্সের জন্য খিলগাঁওয়ে জায়গা সংকুলান হয় না।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ব্যাটালিয়ন আনসারের সংখ্যা ২০ হাজারের মতো। অঙ্গীভূত আনসারের সংখ্যা হচ্ছে ৬০ হাজার। মোট ৮০ হাজারের এই ফোর্সের বাইরে রয়েছে ভিডিপি। ৩৫ হাজার দলনেতা ভিডিপির অধীনে আবার ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে ভিডিপির। সংখ্যার দিক থেকে রেগুলার এবং ইরেগুলার সব মিলিয়ে এটি সবচেয়ে বড় ফোর্স। আনসার ব্যাটালিয়নের অঙ্গীভূত সদস্যরা বাদে রেগুলার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করে। তবে তাদের আবাসন সংকট এখনও রয়ে গেছে। যারা সেন্ট্রালি এখানে ডিউটি করেন, তারা রাতের জন্য আবাসনের জায়গা ঠিকমতো খুঁজে পান না। এজন্য আমরা এখানে সেন্ট্রালি একটি ডরমেটরির ব্যবস্থা করব। তাদের আবাসনের জন্য ব্যারাক নির্মাণসহ সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করব।
আজকের দিনটি আনসার ব্যাটালিয়নের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। যাতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা সুষ্ঠুভাবে রক্ষা করা যায়, উন্নতি করা যায় এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত করা যায়। আনসার ব্যাটালিয়নের ঐতিহাসিক কিছু অর্জন রয়েছে এবং আনসার ব্যাটালিয়নের সম্পর্কে গর্ব করার মতো অনেক জায়গা আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ব্যাটালিয়ন আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। রাষ্ট্রের শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য ভিডিপিসহ অন্যান্য অঙ্গীভূত আনসার কাজ করে, তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারবে। তাদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য সরকার সবসময় চেষ্টা করছে। তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রয়েছে, এগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যেটা ল এনফোর্সার্স, বিভিন্ন এজেন্সি আছে, তারা সবাই সমন্বিতভাবে একটি অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই জায়গায় আনসার ব্যাটালিয়নও থাকবে, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি সহ অন্যান্য ফোর্স থাকবে। সকলেই সমন্বিতভাবে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকের মতো হীন অপরাধ দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত উদ্যোগ সবসময় রয়েছে, যা এখনও চলছে এবং সামনে আরও জোরদার করা হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কারো কারো দায়িত্ব অবহেলা লক্ষ্য করা গেছে। এজন্য আমরা যেগুলো আমাদের সামনে আসছে, নজরে আসছে, তদন্তে আসছে, সেগুলোর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং চলছে। ক্ষেত্রবিশেষে আমরা শুধু তাদের প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হচ্ছি না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ক্রিমিনাল অফেন্স হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায়ন করা হচ্ছে। এই বার্তা আমরা সব জায়গায় পৌঁছে দিয়েছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন