প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বান্দরবানের রুমায় সড়ক ধসে পড়ার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাচ্ছে, আবার কোথাও সড়ক ভেঙে পড়ছে। প্রকল্পের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে, যদিও ঠিকাদারকে বিল প্রদান করার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানানো হয়েছে, পাহাড়ে স্থানীয় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেশ কিছু সড়কের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, কিছু কাজ এখনো চলমান। তবে, এসব সড়কের অধিকাংশ কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজমান রয়েছে।
বিশেষ করে রুমা-রোয়াংছড়ি অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়ক নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠে আসছে। এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৬১০ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ছয়টি স্থানে মোট ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ঠেস দেওয়া দেয়াল নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছোহ্লামং মারমা, এবাই মং মারমা ও উক্য থোয়াই মারমা জানিয়েছেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে একই সড়কের প্রথম ধাপের এক হাজার ৫০ মিটার পিচ ঢালাইয়ের কাজ ২০২৪ সালে সম্পন্ন হয়। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপরও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত না করেই নতুন অংশে নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সড়কের প্রতিরক্ষা ও ঠেস দেওয়া দেওয়ালের মান মানসম্মত নয়। নদীর বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি বালু এবং নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ঠিকাদার কিছু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে নিম্নমানের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
যদিও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরেও চলতি জুন মাসে রানিং বিল ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইন্দু ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গংবাসে মারমা মন্তব্য করে বলেন, এখানে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। ব্যবহৃত ইটের মানও খুব খারাপ। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও ঠিকাদারের লোকজন তা আমলে নিচ্ছে না।
গাড়িচালক উক্যথোয়াই মারমা জানান, নতুন রাস্তা তৈরির পরও বহু স্থানে রাস্তা ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই সড়কের এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল জরুরি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা জানান, এলজিইডির মাধ্যমে সড়কটির অনুমোদন পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম ধাপে কাজ হয়ে যাওয়ার এক বছর পেরোতেই সড়ক ভেঙে গেছে। দ্বিতীয় ধাপের কাজের জন্য এলাকাবাসীর অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলজিইডির তদারকির দায়িত্বে থাকা মাঠ কর্মকর্তা (এসও) বিদ্যুৎ চরণ ধর বলেন, ‘ঠিকাদারের অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে জেলা কার্যালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারকে একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি নির্দেশনা মানছেন না।’
এ ব্যাপারে রুমা উপজেলার অতিরিক্ত উপজেলা প্রকৌশলী ও চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী দিবাকর রায়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ দেওয়ান মন্তব্য করেন, সড়ক নির্মাণের পর কিছু অংশে ভাঙন দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরে বরাদ্দ এলে তা মেরামত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন