প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় দেশব্যাপী আলোচিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। মামলায় দুই সাংবাদিক নেতাকে আসামি করার বিতর্ক চলাকালীন এবার সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর 'মামলা বাণিজ্যে'র অভিযোগ। ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় মামলায় আসামি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পরে অনুনয়-বিনয় করে বিকাশের মাধ্যমে ১৯ হাজার ১০ টাকা পাঠানো হলেও শেষ রক্ষা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক যুবলীগ নেতার; তাকে মামলার ২৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় আরও এক যুবলীগ নেতাকে আসামি করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের প্রমাণ ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুকের পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। যে দুটি নম্বর থেকে ফোন করে টাকা দাবি ও বিকাশ লেনদেন করা হয়েছে, বর্তমানে সে দুটিই বন্ধ রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বন্ধ থাকা নম্বরগুলোর লোকেশন নীলফামারী এলাকায় শনাক্ত করা গেছে। গত ৯ জুলাই মাদক ও চুরি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এক সন্দেহভাজন আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালানো হয়। ফুলশ্রী গ্রামের বাসিন্দা গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ ফকিরের স্বজনরা মিছিল করে এসে থানায় ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও দায়ের করা মামলায় উসকানিদাতা হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে—আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এফএম নাজমুল রিপন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান আজাদ সেরনিয়াবাত, বরিশাল জেলা যুবলীগ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম সাগর সেরনিয়াবাত। থানার এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় তিনশজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার ২৪ নম্বর আসামি ও জেলা যুবলীগ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম সাগর সেরনিয়াবাত অভিযোগ করেন, থানায় ভাঙচুরের মামলায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে। ৯ জুলাই এজাহারে ওসির স্বাক্ষরের আগেই একটি অচেনা নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা মামলার বাদী এসআই ওমর ফারুক পরিচয় দিয়ে বলেন, মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে। নাম কাটাতে হলে ১০ মিনিটের মধ্যে ওসি (তদন্ত)-র কাছে ৪০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, বিষয়টিকে প্রথমে ভুয়া মনে হয়েছিল, কিন্তু পরে অন্য একটি নম্বর থেকে কল আসে। সন্দেহ দূর করতে স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম মারুফ ও সাবেক ইউপি সদস্য বাদল সেরনিয়াবাতের নাম টেনে ফোনে কথাবার্তা হয়। দরকষাকষির মাধ্যমে ১৯ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। একটি নাম্বারে দুইবারে ১৫ হাজার ৫ টাকা ও ৪ হাজার ৫ টাকা মোট ১৯ হাজার ১০ টাকা বিকাশ করা হয়। তবে ১০ জুলাই মামলা এজাহারভুক্ত হলে সাগর দেখতে পান তাকে আসামি করা হয়েছে। এরপর ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সাগর সেরনিয়াবাত জানান, "মামলা এজাহারভুক্ত হওয়ার আগে সেই তথ্য পুলিশের লোক ছাড়া বাইরের কারো জানার কথা নয়। আমি এই প্রতারণা ও মামলা বাণিজ্যের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই।" প্রতারণায় ব্যবহৃত নম্বরগুলো যাচাই করে জানা গেছে, একটি ট্রু-কলার অ্যাপে সার্চ করলে 'এসআই চরফ্যাশন' নামটি প্রদর্শিত হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী এসআই ওমর ফারুক তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ প্রতারণা করে থাকতে পারে। ওই ব্যক্তির (সাগর) সাথে আমার কোনো দিন কথা হয়নি।" আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, "আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিষয়টি জেনেছি। কোন নম্বরগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর লোকেশন নীলফামারী পাওয়া গেছে। তবে নম্বর দুটি বন্ধ। কোনো প্রতারক চক্র আমাদের নাম ব্যবহার করে এটা করতে পারে। তবে এজাহারভুক্ত হওয়ার আগে নথি বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি কীভাবে হলো তা বুঝতে পারছি না।" বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এমন কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও পুলিশের কাছে আসেনি। ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, দেশে ব্যাপী আলোচিত মামলায় পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিসহ ২৯ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন