প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি অর্থে নির্মিত তিন কোটি টাকার সোলার আলোকায়ন প্রকল্পের একটি বড় অংশ এখন কার্যত লুট হয়ে গেছে। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সড়ক থেকে ধাপে ধাপে চুরি হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক সোলার সড়কবাতি। এর ফলে অন্ধকারে ডুবে গেছে সীমান্তমুখী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক, যা ছিনতাই ও অপরাধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক লাইট উধাও হয়ে গেলেও তা ঠেকাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে, পাঁচথুবী ইউনিয়নের গোলাবাড়ি থেকে টিক্কারচর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ লাইট পোস্টে বাতি নেই। টিক্কারচর গোমতী সেতুর ওপরেও একই চিত্র বিরাজ করছে। অনেক পোস্টের মাথায় শুধু সোলার প্যানেল ঝুলছে, আর বাতিসহ সামনের অংশ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও, কোথাও কোথাও পুরো খুঁটিই উপড়ে ফেলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পালপাড়া থেকে গোলাবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সড়কে মোট পাঁচশ’র অধিক সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিটি লাইট স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল প্রায় তিন কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক লাইট চুরি যাওয়ায় সরকারি অন্তত সোয়া কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
স্থানীয়দের বলার মতে, লাইটগুলো একদিনে চুরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে এগুলো খুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো দফতর বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নিয়মিত তদারকি না করায় চোরেরা নির্বিঘ্নে সরকারি সম্পদ সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
পাঁচথুবী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী তানভীর আহমেদ রাহুল উক্ত বিষয়ে বলেন, ‘সীমান্তমুখী এই সড়কটি চোরাকারবারিদের চলাচলের পথ হওয়ায় তারা নিজেদের সুবিধার জন্য পরিকল্পিতভাবে সোলার লাইট নষ্ট ও চুরি করেছে। এখন অন্ধকারের সুযোগে ছিনতাইকারীদের উৎপাতও বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় নজরদারি থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোলার লাইট স্থাপনের পর রাতেও নিরাপদে চলাচল করা যেত। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত এ সড়ক ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যায়। প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাতে এ পথে চলাচলের সাহস পান না। তাদের প্রশ্ন হলো, শত শত লাইট একের পর এক খুলে নেয়া হলেও কেউ কেন তা টের পেল না? সরকারি সম্পদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর জবাবদিহি কোথায়?
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, সোলার লাইট চুরির বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাস্তবে সন্ধ্যার পর পুরো সড়কটি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে অনিরাপদ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, খুব দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে; একইসঙ্গে দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় সড়কে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের শত শত সোলার লাইট কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে চুরি হলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কোনো গাফিলতি ছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জানতে চান স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের দাবি, শুধু তদন্ত কমিটি নয়, দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সীমান্ত সড়কে পুনরায় আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন