প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্যয় সংকোচন ও জ্বালানিসংকট মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে একজন উপদেষ্টা ও ছয় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর জন্য এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে, যা গুরুত্ব বিবেচনায় হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ১৮ মন্ত্রীর গানম্যান ও হাউস গার্ড থাকবে। তাঁরা ঢাকার বাইরে সফরকালে পুলিশের এসকর্ট পাবেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তা বহরেও কাটছাঁট করা হয়েছিল।
বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। সাধারণ কার্যক্রম অনুযায়ী একজন মন্ত্রীর প্রোটেকশন এসকর্টে একটি উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবলের একটি দল থাকে। তাঁদের চলাচলের জন্য সরকারের জন্য বরাদ্দ পুলিশ একটি পিকআপ ভ্যান থাকে। এই এসকর্ট দলের বেতন, ভাতা এবং গাড়ির জ্বালানি ব্যয়ের জন্য সরকার অনুমোদন করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভিআইপি প্রটোকলে ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয়। পরে সেই নির্দেশনা পৌঁছানোর পর ডিএমপি কমিশনারকে পাঠানো হয় এবং এই কারণে গত সপ্তাহ থেকে ১৮ মন্ত্রীর প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
যাঁদের জন্য এসকর্ট সুবিধা এখনো বহাল রয়েছে, তারা হচ্ছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন; পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অপরদিকে যাঁদের পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান; সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম; শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকারী আবদুল মুক্তাদীর; শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের; শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সূত্র জানাচ্ছে, ভিআইপিদের নিরাপত্তা ও চলাচলে সুরক্ষা দিতে ঢাকায় একটি সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ পুলিশের ১,৬৯১ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এরা ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।
পুলিশের প্রটোকল তালিকায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুদক চেয়ারম্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশের সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে যেকোনো ব্যক্তিকে ভিআইপি মর্যাদা দিতে পারে।
সরকার সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ভিআইপি মর্যাদা দিয়েছে এবং তাঁর নিরাপত্তায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। বঙ্গভবনে ১৩৫ জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে ৪০ জন এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নিরাপত্তায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছে।
ডিএমপির সূত্র জানাচ্ছে, ঢাকায় ভিআইপি প্রোটেকশনের জন্য মোট ২,৫৭৫ জন পুলিশ সদস্য প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে ১,৬৯১ জন আছেন, ফলে ৮৯৬ জন সদস্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের মানসিক এবং শারীরিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় একাধিক থানার উপর হামলায় অনেক প্রোটেকশন গাড়ি পুড়ে যাওয়ায় গাড়ির সংকট বিরাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন