প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয় এবং সন্ত্রাসী হাফিজ সাইদের বিচার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তবে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে তাদের এড়িয়ে চলে যান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরে রয়েছেন, যেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন। বৃহস্পতিবার, যখন শাহবাজ শরিফ জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রবেশ করছিলেন, তখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনারা কবে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবেন?’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। পরে, জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে বের হওয়ার সময় আবারও তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনারা কবে লস্কর-ই-তৈয়বা প্রধান হাফিজ সাইদকে বিচারের মুখোমুখি করবেন?’ কিন্তু শাহবাজ শরিফ এবারও উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।
হাফিজ মুহাম্মদ সাইদ, যিনি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোদার বাসিন্দা, একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলা মামলার অন্যতম আসামি।
সম্প্রতি, ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা অভিযোগ করেছে যে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা পাকিস্তানের মাটিতে থাকা নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। এই হামলার সম্পূরক চার্জশিটে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাফিজ মুহাম্মদ সাইদকে ৮ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এই হামলার পেছনের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে তার জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
একদিন আগে, ভারত জাতিসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে বলেছে, ইসলামাবাদের উচিত তাদের ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করা বা আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করার পরিবর্তে বিদেশি আর্থিক সাহায্য নিয়ে টিকে থাকা ঋণগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে নিজেদের শক্তি নিয়োগ করা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উত্তর দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের নজর ঘোরানোর কৌশলগুলো নস্যাৎ করে দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, পাকিস্তানের এই শত্রুভাবাপন্ন অবস্থান তাদের ভেঙে পড়া আর্থিক ব্যবস্থাকে উদ্ধার করতে কোনো কাজে আসবে না।
ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের অগ্রাধিকারগুলো যে মৌলিকভাবে ভুল জায়গায় রয়েছে তা উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, ‘অন্যের ভূখণ্ডের লোভ করা কিংবা সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি করার চেয়ে উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করলে পাকিস্তান তাদের জনগণের আরো ভালো সেবা করতে পারত।
কারণ এসব কর্মকাণ্ড বা কাউন্সিলে তাদের এই নাটকীয়তা—কোনোটিই সেই ঋণ পরিশোধে সাহায্য করবে না, যার ওপর ভর করে তাদের অর্থনীতি টিকে আছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন