প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে জল্পনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির গণমাধ্যম দ্য অবজার্ভার জানিয়েছে, আগামী সোমবার (২২ জুনের) মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করতঃ পারেন এবং বিদায়ের একটি সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারেন। তবে সরকারের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে যে, স্টারমার এখনো পুরোপুরি দায়িত্বে মনোযোগী রয়েছেন।
কয়েক মাস ধরেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা গত শুক্রবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম একটি উপনির্বাচনে জয় পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তৈরি করেছেন। এতে লেবার পার্টির ভেতরের চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দ্য অবজার্ভার জানিয়েছে, চ্যাকার্সে তাঁর সরকারি বাসভবনে স্ত্রীকে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন স্টারমার। লেবার পার্টির শীর্ষ পর্যায়ে ধারণা করে, খুব শিগগিরই তাঁর সিদ্ধান্ত প্রকাশ পেতে পারে।
অন্যদিকে, সরকারি সূত্রগুলো স্টারমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে। গত শুক্রবার, তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তাঁর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন এবং দলকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে না জড়ানোর আহ্বান জানান।
জনপ্রিয়তায় ধস
২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয় এনে দিলেও, সময়ের ব্যবধানে স্টারমারের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমেছে। একাধিক কেলেঙ্কারি এবং নীতি পরিবর্তনের কারণে ভোটারদের আস্থা কমে গেছে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির 100 জনের বেশি এমপি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ বা বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে, যা দলটির ভেতরের চাপেরই প্রতিফলন।
দ্য অবজার্ভার আরও জানিয়েছে, ক্যাবিনেটমন্ত্রী, উপদেষ্টা, দাতা ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে স্টারমার নিজেও বুঝতে পেরেছেন যে, তাঁর অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও এসব দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
নেতৃত্বের অপেক্ষায় বার্নহাম
৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহামকে লেবার পার্টির অনেকেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করার পর তিনি সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।
বার্নহাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানাননি। তবে তাঁর বক্তব্যে নতুন পথের ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হিসেবে ঘুরছে।
এদিকে দ্য টাইমস জানিয়েছে, বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন। যদিও রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
স্টারমার শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ালে, গত এক দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে। যা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন