প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে বেসরকারি হাসপাতালের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে ‘থাই মামান গোল্ড রিং স্কিম’ নামে নতুন একটি প্রকল্প চালু করে আলোচনার কেন্দ্রে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণী অভিনেতা থালাপতি বিজয়।
নায়কের এ প্রকল্পকে রাজ্যের অন্যতম ব্যতিক্রমী জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজয়ের সরকার তামিলনাড়ু রাজ্যে স্বল্প খরচে সুরক্ষিত মাতৃত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে ভোগান্তি ও বড় বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো।
ভারতের সরকারি নথি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে বছরে প্রায় ৭.৮ লাখ শিশু জন্ম নেয়, যার মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ (৪.২ লাখ) শিশুর জন্ম সরকারি হাসপাতালগুলোতে হয়। অন্যদিকে, বাকি শিশুর বড় অংশ আসে বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে। সেখানে সন্তান প্রসবের গড় খরচ প্রায় ৬৩,৪৭৩ রুপি, অথচ সরকারি হাসপাতালে এ খরচ মাত্র ১,৩৬৪ রুপি।
বিজয় সরকারের নজরে বিষয়টি এলে প্রসব চিকিৎসায় অকারণে বেসরকারি হাসপাতালের নেয়া বিশাল পরিমাণ অর্থ রুখে দিতে নতুন স্কিমের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য তামিল সমাজের প্রচলিত রীতি ব্যবহার করা হয়।
তামিল রাজ্যে ‘থাই মামান সির’ নামে একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে, যেখানে নবজাতককে আশীর্বাদ ও উপহার দেন তার মামা। সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজ্যের সরকার নতুন প্রকল্পটি চালু করতে চলেছে।
নতুন শিশুদের প্রতি স্নেহ ও দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে এই স্কিম চলতি বছরে বিজয়ের জন্মদিন ২২ জুন থেকে চালু হয়েছে। স্কিম অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেয়া সকল শিশুকে বিজয় সরকারের পক্ষ থেকে এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি উপহার দেয়া হবে। এই নতুন প্রকল্পের জন্য বছরে ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি অর্থ বরাদ্দ রেখেছে বিজয় সরকার।
এ সুবিধা ভোগ করতে চাইলে মায়েদের অবশ্যই তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। স্কিমটিতে কোন লিঙ্গবৈষম্য নেই। ছেলে ও মেয়ে উভয় সন্তানই এই ‘উপহার’ পাবে। সন্তান জন্মক্রমের উপরও কোনো বিধিনিষেধ নেই, তাই প্রথম কিংবা পরবর্তী সব সন্তানের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাঘাম’-এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি ছিল এই প্রকল্প। এজন্য দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিজয় সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সি এন আন্নাদুরাইয়ের জন্মবার্ষিকীতে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন