প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসার ভেতর ৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধা মা নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছেলে, সরকারের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, আনিসুর রহমানকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সংযুক্ত) হিসেবে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রুর সই করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে আগামীকাল বৃহস্পতিবারের (৪ জুন) মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। না হলে তিনি ৪ জুন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পূর্বে, দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার (৩১ মে) ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরের একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকালীন মরদেহটি পচে গেছে এবং পোকায় ধরেছিল, ঘরজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাসাটি অত্যন্ত নোংরা ও অগোছালো অবস্থায় ছিল।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানিয়েছেন, নুরজাহান বেগম ওই বাসায় তার শিক্ষিকা মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে মৃত্যুর সময় বা তার আগে চরম অবহেলার চিত্র সেখানে দেখা গেছে। ওসি আরও জানিয়েছে, নিহত নুরজাহান বেগমের এক ছেলে, সরকারের যুগ্ম সচিব (যিনি আজ বরখাস্ত হলেন), আরেক ছেলে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে, স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষিকা।
উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের এই চরম অবহেলায় বৃদ্ধা মায়ের এমন করুণ ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন