প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাদিয়া স্বামীকে তালাক দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে নতুন করে বসবাস শুরু করেছিলেন। পরে, বিয়ের জন্য প্রেমিক মো. আব্দুর রাজ্জাক, যিনি আরিয়ান নামে পরিচিত (২৫), চাপ দেওয়ার কারণে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
অপর দিকে রাজ্জাক পরে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে, সাদিয়া হত্যার রহস্য উন্মোচন করে এসব তথ্য প্রকাশ করেন পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মিন্টু কুমার।
পিবিআই জানায়, সাদিয়ার বিয়ের হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে ইব্রাহিমের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের পর, সাদিয়া জানতে পারেন যে ইব্রাহিম পূর্বে বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।
এই বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহের এক পর্যায়ে, সাদিয়া সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি ইব্রাহিমকে ডিভোর্স দেবেন।
এদিকে, আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ান পরিচয় গোপন করে অবিবাহিত দাবি করে, সাদিয়ার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। গত ১ জুলাই, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায়, তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ভাড়া বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
তদন্তে দেখা যায়, গত ১২ জুলাই রাতের দিকে, সাদিয়া রাজ্জাককে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু রাজ্জাক এতে অস্বীকৃতি জানালে, তাদের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ রাজ্জাক সাদিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন।
পরে, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ ঘরে ফেলে রেখে নিহতের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা হওয়ার পর, ১৬ জুলাই পিবিআই মামলাটি অধিগ্রহণ করে। প্রথমে, এজাহারভুক্ত আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, কিন্তু পরে তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানকে প্রকৃত হত্যাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
পিবিআই জানায়, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাথায় ক্যাপ পরা একজন ব্যক্তির আসা-যাওয়ার দৃশ্য। পরে নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যা তাহিয়া জানায় যে, ওই ব্যক্তি আরিয়ান চাচ্চু নামে তাদের বাসায় প্রায়ই আসতেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে, রাজ্জাকের অবস্থান নিশ্চিত করে ২১ জুলাই কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রাজ্জাক সাদিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যে অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ক্যাপ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং বিক্রি করে দেওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। ২২ জুলাই, তাকে আদালতে হাজির করা হলে, তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারো সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন