প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের ডাসার থানা এলাকায় ক্রয়কৃত পৈত্রিক ও ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান, ১২ লক্ষ টাকার নির্মাণ সামগ্রী বিনষ্ট এবং দফায় দফায় মামলা দিয়ে একটি পরিবারকে নিঃস্ব করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, জমিতে নির্মাণ কাজ করতে গেলে গৃহবধূ ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষরা।
ভুক্তিভোগী মোর্শেদা বেগম (৩৯) নামের এক গৃহবধূ গত ২৫ মে ডাসার থানায় এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মোর্শেদা বেগম বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার মেদাকুল (সালতা) গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান কুদ্দুসের স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান কুদ্দুস গত ২০২৪ সালে ডাসার থানার দক্ষিণ ভাউতলী এলাকায় সুধির কুমার দাস ও রমেশ চন্দ্র দাস গংদের নিকট থেকে ১০ শতাংশ এবং মোঃ সাইফুল ইসলাম গংদের নিকট থেকে তিন দাগে ৮৩ শতাংশ ও অন্য দাগে আরও ৮ শতাংশসহ মোট ১০১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমিটির বিআরএস খতিয়ান নম্বর যথাক্রমে ২৮২/১ (দাগ নং- ২০৬, ২০৮, ২১১) এবং খতিয়ান নম্বর ১৬১ (দাগ নং- ২০৭)।
জমি ক্রয়ের পর ভুক্তভোগী পরিবারটি বিপুল টাকা খরচ করে নাল জমিটি বালু দিয়ে ভরাট করেন। বর্তমানে সেখানে তাদের লাগানো ৫০০টি ফলদ গাছ, ২টি টিনের পাকা বসত ঘর, ১টি শেড ঘর ও পল্লী বিদ্যুতের মিটার রয়েছে, যা তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
৯ বার মামলা করে হেরেও থামেনি প্রতিপক্ষ
মোর্শেদা বেগম জানান, তারা ওই জমিতে একটি পাঁচতলা ভবনের কাজ শুরু করলে স্থানীয় নূর জাহান বেগম (৬০), দেলোয়ার বেপারী (৬৫), জানে আলম বেপারী (৬০), ইব্রহিম বেপারী (৩০), শাহ আলম বেপারী (৫৫) এবং সাকিব বেপারী (৩২) সহ একদল কুচক্রী মহল বাধা প্রদান করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষরা গত ৩ বছর ধরে জমিটি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা জমিটি নিয়ে মহামান্য আদালতে একে একে ৯টি মামলা দায়ের করে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মামলা নম্বরসমূহ হলো: পি-১৪৬১/২৫, পি-১০৬৪/২৫, দেওয়ানী মোকাদ্দমা নং-২৬৯/২৪, সি.আর-১২/২৬, মিস আপীল-৬২/২৫, ৬১৫/২৬ এবং ৯৬/২৫। বিজ্ঞ আদালত প্রতিবারই নথিপত্র ও সত্যতা যাচাই করে ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান কুদ্দুসের পক্ষে রায় প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের রায় অমান্য করে চক্রটি বারবার নতুন নতুন ভুয়া মামলা দিয়ে পরিবারটিকে হয়রানি করে আসছে।
১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও গুমের হুমকি
বারবার মামলা ও নির্মাণ কাজে নিষেধাজ্ঞার কারণে সাইটে এনে রাখা ১০ লক্ষ টাকার রড এবং ২ লক্ষ টাকার সিমেন্টসহ মোট ১২ লক্ষ টাকার নির্মাণ সামগ্রী রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ গত ১৯/০২/২০২৬ এবং ২৫/০৫/২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ৯ ঘটিকার সময় ভুক্তভোগীরা পাঁচতলা ভবনের কাজ করতে গেলে বিবাদীরা দলবল নিয়ে কাজে বাধা দেয়। এ সময় বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রতিপক্ষরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং জমিতে পা দিলে সবাইকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দেয়। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগী মোর্শেদা বেগম বলেন,
"আমরা বৈধভাবে জমি কিনে, খাজনা-খারিজ দিয়ে ঘরবাড়ি তুলেছি। আদালতও আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু দেলোয়ার বেপারী ও জানে আলম বেপারীরা প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমাদের ১২ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেল। আমরা এখন জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও আইনি সহায়তা চাই।"
এই বিষয়ে ডাসার থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন