প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে ইসলামি মূল্যবোধ সংরক্ষণ, মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এই দেশের মানুষের ঈমান, আকীদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন যে, দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা, এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান ও আকিদা সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংগঠনটির উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— আহমদিয়া মুসলিম জামাতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রচার-প্রকাশনা বন্ধ করা, হিযবুত তাওহীদসহ 'ভ্রান্ত' সংগঠন এবং ইসকনসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি।
এছাড়া ইসলাম ধর্ম, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং কুরআন-সুন্নাহ অবমাননার অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান প্রণয়ন, ইসলামবিরোধী প্রচারণা বন্ধ করা, ইসলামি মূল্যবোধবিরোধী সংস্কৃতির বিস্তার রোধ করা, ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন বাতিল করা, ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ করা, মসজিদ-মাদরাসার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ওয়াজ মাহফিলে প্রশাসনিক বাধা অপসারণের দাবিও জানান তিনি।
বিবৃতিতে নাটক, সিনেমা এবং গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি, হিজাব কিংবা ধর্মীয় পোশাককে নেতিবাচক বা ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করা হয়েছে। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মান্তকরণ কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট এনজিও ও খ্রিস্টান মিশনারিদের কর্মকাণ্ড তদন্ত ও বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, “এসব দাবি দেশের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ের দাবি।” তিনি আরও জানান, সরকার যদি এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে দেশের উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ জনগণ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
তবে বিবৃতিতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ, দাবি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিষয়ে কোনো স্বাধীন যাচাই বা সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা অভিযুক্ত সংগঠনগুলোর বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন