প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দেওয়ানগরের বাসিন্দা শেখ পেয়ার আলী মৌলিক সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সরকারি রেকর্ডে ভুলবশত তাঁকে 'মৃত' হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
একটি রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বুক করার চেষ্টা করার সময় পেয়ার আলী প্রথমবারের মতো এই বিষয়টি বুঝতে পারেন। বুকিং ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট গ্যাস এজেন্সিতে গেলে তাঁকে জানানো হয় যে সমস্যা তাঁর আধার সংক্রান্ত তথ্যের কারণে হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য তিনি মেদিনীপুর প্রধান ডাকঘরে যান। তাঁর পরিবারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আধার কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান যে সরকারি খাতায় তাঁর স্ট্যাটাস ‘মৃত’ হিসেবে নিবন্ধিত থাকার কারণে আধার নম্বরটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
শেখ পেয়ার আলী আক্ষেপ করে বলেন, "আমার আধার কার্ডটি হঠাৎ করেই নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আমি নানাবিধ সমস্যায় পড়েছি। নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে আর আধার সচল করতে এখন আমাকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্যা আফরিন জাবি তাঁর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। আফরিন, যিনি একজন জাতীয় পর্যায়ের সাঁতারু এবং ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন, বিষয়টি প্রথম ব্যাপকভাবে তুলে ধরেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন মানুষ শারীরিকভাবে সুস্থ ও জীবিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সরকারি নথিতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হতে পারে? আফরিন পোস্টে লেখেন, "আমার বাবা বহাল তবিয়তে জীবিত আছেন, অথচ তাঁর আধার তথ্যে তাঁকে 'মৃত' দেখানো হচ্ছে এবং সে কারণেই আধারটি বন্ধ করা হয়েছে।"
তিনি জানান, সিলিন্ডার বুক করার সময় সমস্যা দেখা দিলে তাঁরা মেদিনীপুর প্রধান ডাকঘরের আধার কেন্দ্রে যান। সেখানকার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে বাবার আধার কার্ডের বিপরীতে ‘মৃত’ স্ট্যাটাস যুক্ত করা হয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আফরিন লেখেন, "একজন জ্যান্ত মানুষকে কাগজে-কলমে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে মৃত! এখন কি নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে তাঁকে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে?"
এছাড়া, তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বিভ্রাটের জন্য কার ভুল এবং কোন কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে এর সুরাহা মিলবে। আধার কেন্দ্র থেকেও পরিবারটি তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর সমাধান পায়নি বলে অভিযোগ করেন।
আফরিন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বাবার আধার সেবা সচল করার জোর দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য নাগরিকদের সেবা সহজ করা; কিন্তু ভুল তথ্যের কারণে যদি নাগরিকদের এভাবে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
একজন জীবিত মানুষকে ভুলে মৃত হিসেবে নথিভুক্ত করা হলে তা সংশোধনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কে—সে বিষয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
মেদিনীপুর সদর উপ-বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) মো. মারঘুব ইলমি জানান, এটি মূলত বিভিন্ন ডেটার মধ্যে অমিল হওয়ার কারণে ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, "ডেটা মিসম্যাচের কারণে এ ধরনের ভুল হয়ে থাকতে পারে। আমার জানা মতে, এর আগে আরও দুটি অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল যেখানে জীবিত ব্যক্তিকে ভুলবশত 'মৃত' দেখানো হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়। খড়গপুর শহরের আধার সংশোধন কেন্দ্রে গেলে এজাতীয় ভুল সংশোধন করা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন