প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ঘিরে আরব-আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, যদি তিনি জয়ী হন, তবে এটি একটি ‘ঐতিহাসিক’ অর্জন হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী ইসরায়েলপন্থী লবি, আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপ্যাক) কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে প্রচারণা চালাচ্ছে।
মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহর, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠী অবস্থান করছে, সেখানে আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। সমর্থকদের মতে, এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিদেশের যুদ্ধে ব্যয় না করে, বরং স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করতে চাইছেন।
মিশিগানের স্থানীয় অধিকারকর্মী সুহাইলা আমেন মন্তব্য করছেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ এবং ধ্বংসযজ্ঞ আরব-আমেরিকানদের মনে গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আবদুল এল-সায়েদের জয় হলে, এটি ঐতিহাসিক হবে। এ থেকে প্রমাণিত হবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সকল রাজনীতিবিদ ইসরায়েলের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন না।’
মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সায়েদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স। তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত। এআইপ্যাক এবং অন্যান্য ইসরায়েলপন্থী সংগঠন হ্যালি স্টিভেন্সের পক্ষে ৫ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে।
অন্যদিকে, মিসরের বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুল এল-সায়েদ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কর্মকাণ্ডকে 'গণহত্যা' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ বিদেশের যুদ্ধে ব্যয় হওয়া উচিত নয়, বরং দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় হওয়া উচিত।
এল-সায়েদের সমর্থনে রয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি) এবং অন্যান্য প্রগতিশীল নেতা। অন্যদিকে, হ্যালি স্টিভেন্সকে সমর্থন জানিয়েছেন মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার এবং সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার।
বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানের এই নির্বাচন কেবল একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়; বরং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির প্রতীক হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে।
প্রচারণার সময় আবদুল এল-সায়েদকে ধর্ম এবং জাতিগত পরিচয় নিয়ে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, ভোটাররা তার নাম বা ধর্মের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে, বরং তার নীতি এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই মূল বিষয় হিসেবে দেখতে পারছেন।
আসন্ন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি ফল নির্ধারণ করবে, নভেম্বরে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে কে লড়বে তা। অনেক বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের জন্য ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মিশিগানের এই আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন