প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের আলোচিত ককরোচ জনতা পার্টি প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলন করেছে। গত বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নেতারা এনইইটি, সিবিএসই এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফলাফলের ত্রুটিসহ নানারকম বিতর্কের কারণে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উত্থাপন করেছেন।
এছাড়া, দাবি আদায়ে আগামী শনিবার (৬ জুন) রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অভিযোগ করেছে যে, এনইইটি, এসএসসি, সিবিএসইসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় বড় ধরনের অনিয়ম ঘটেছে। এর ফলে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ব্যর্থতার জন্য সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির সদস্য ও সাংবাদিক সৌরভ দাস মন্তব্য করেন, ‘আমাদের মূল দাবি হলো—ব্যবস্থার মধ্যে জবাবদিহি থাকা উচিত। আট লাখ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়েছেন। কিন্তু তাদের তরফ থেকে একটি কথাও বলা হয়নি। মাত্র দুজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, যা শাস্তির পর্যায়ে পড়ে না। তাদের সাসপেন্ডও করা হয়নি। আমরা পুরো ব্যবস্থার কাছে জবাবদিহি চাই। সারা দেশে যে সমর্থন আমরা পাচ্ছি, তা আপনারা দেখেছেন।’
ককরোচ জনতা পার্টি জানায়, ৬ জুন তারা দিল্লি বিমানবন্দর থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশন পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করবে। এতে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তারা রাজধানীর জনতর মন্তরে প্রতিবাদ করার জন্য অনুমতি চাইবেন। সকল দলের মানুষকে এতে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনজন মুখপাত্রের নামও ঘোষণা করা হয়েছে: অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাস, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং সাবেক ম্যাকিন্সে কর্মী ও আম আদমি পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।
৬ জুনের এই কর্মসূচিটি হবে তাদের প্রথম সংগঠিত রাস্তার প্রতিবাদ। আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন। আমরা অনুমতি চাইব। দিল্লি পুলিশের কাছে অনুরোধ করছি—এই বিষয়ে একটা টুইট করার অনুমতি দিন। তারা এখানে বড় মনের পরিচয় দিক।’
সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির সূচনা ঘটে একটি ব্যাঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা থেকে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত যুবকদের কিছু অংশকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অভিজিৎ দীপকে নামের এক তরুণ ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি নামে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন।
এটি এক বড় যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যদিও এটি এখনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, তবে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এর ফলোয়ারের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রায় দ্বিগুণ।
ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি একটি ওয়েবসাইটও চালু করে। কিন্তু চালুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘তেলাপোকা দেখে তাদের এত ভয় কেন?’
চলতি সপ্তাহে একটি ভিডিও বার্তায় বোস্টনে বসবাসকারী সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ঘোষণা করেন, তিনি প্রতিবাদে অংশ নিতে দিল্লি আসবেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই বিমানবন্দরে আমার সঙ্গে দেখা করবেন। একসঙ্গে আমরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে যাব এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি চাইব।’ তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেফতারও করা হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদের ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে কি না—জানতে চাইলে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, তারা একটি ‘শান্তিপূর্ণ’ প্রতিবাদের আহ্বান জানাচ্ছেন। রাঙ্কা আরও বলেন, ‘সবকিছু আইন ও সংবিধান অনুসারে হবে। আমরা সবাইকে আইন মেনে চলার আবেদন জানাই।’
বিজেতা দাহিয়া বলেন, অভিজিৎ দিপকে গ্রেপ্তার করা হলে এই আন্দোলন চলবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এটা শুধুই অভিজিতের দল নয়, এটা যুবকদের দল। জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক গ্রেফতার হতে পারেন, তাহলে অভিজিৎও গ্রেফতার হতে পারেন। কিন্তু কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন