প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গরমকালে লিচু একটি জনপ্রিয় ফল, যা রসালো, মিষ্টি ও সুস্বাদু। এটি শিশুদের থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষেরই আকর্ষণ করে। তবে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খালি পেটে লিচু খাওয়া কিছু মানুষের জন্য হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি, বিশেষ করে শিশু ও অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। চিকিৎসকদের মতে, লিচুতে প্রাকৃতিকভাবে কিছু রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যেমন হাইপোগ্লাইসিন এ এবং মেথিলিনসাইক্লোপ্রোপাইলগ্লাইসিন। আধাপাকা বা কাঁচা লিচুতে এসব উপাদানের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। অপর্যাপ্ত ঘুম বৃদ্ধি করতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি। খালি পেটে এ ধরনের লিচু খেলে শরীরে গ্লুকোজ উৎপাদনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। গুরুতর অবস্থায় এটি মস্তিষ্কের কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের মতো দেশে অতীতে কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে শিশুদের লিচু খাওয়ার পর 'অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিনড্রোম' দেখা গেছে। এতে খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ, এমনকি জ্ঞান হারানো ও কোমা পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তি, দীর্ঘ সময় খিদা পেয়েও না খাওয়া মানুষ এবং নিয়মিত খাবার মিস করেন এমন ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। লিচু খাওয়ার পর সমস্যা হলে শুরুতে দেখা দিতে পারে বমি, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা। পরে গুরুতর অবস্থায় খিঁচুনি, অচেতনতা বা কোমার মতো পরিস্থিতি হতে পারে। তবে, লিচু পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে যথেষ্ট ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পানি, যা শরীরের জন্য উপকারী। চিকিৎসকেরা তাই পরামর্শ দেন, খালি পেটে লিচু না খাওয়ার, শিশুদের আগে খাবার খাওয়ানোর, পরিমিত পরিমাণে লিচু গ্রহণের এবং ফলটি ভালোভাবে ধোয়ার। সচেতনভাবে ও পরিমিত পরিমাণে লিচু খেলে এটি নিরাপদ ও উপকারী একটি গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে উপভোগ করা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন