প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাতে কনের বাড়িতে আনন্দমুখর পরিবেশে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরের দিন বর সেজে কনের বাড়িতে বরযাত্রী আসার প্রস্তুতি চলছিল। প্যান্ডেল সাজানোর কাজ, রান্নাবান্না সহ সব আয়োজন হতে চলছিল সুন্দরভাবে। কিন্তু আকস্মিক একটি দুর্ঘটনার কারণে সমস্ত আয়োজন থমকে গেছে। গায়ে হলুদ শেষে মাহিন নামের বর মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন।
শনিবার রাতের আয়োজনে লক্ষ্মীপুরে কনের বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। এতে বর মাহিনও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার সময় সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় বেড়ির মাথা-মোল্লারহাট সড়কে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।
আজ রবিবার বরযাত্রা ও বৌ-ভাতের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুর্ঘটনার খবর শুনে দুই পরিবারের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়। কনের বাড়িতে দাওয়াতি রান্নার হাড়ি-পাতিল এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে। অতিথিদের বসানোর জন্য আনা চেয়ারগুলোও বিছানো হয়নি। খালি পড়ে আছে বরের বসার স্থান।
স্থানীয়রা জানায়, মাহিন দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে কনে মিফতাহ প্রায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
নিহত মাহিনের সন্তানদের একজন হুমায়ুন কবির বলেন, গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মাহিনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স খুব কম ছিল। দুই দিন আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল এবং কনের বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছিল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে। ফিরে আসার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
কনের মামা জাহেদুন সোহেল জানালেন, শনিবার রাতে তার ভাগনির গায়ে হলুদ ছিল, যেখানে বরও উপস্থিত ছিলেন। মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রবিবার বৌ-ভাতের আয়োজন ছিল, কিন্তু এক রাতের মধ্যে সব আনন্দ বিষাদের মধ্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, বর ও কনের বয়স ১৪-১৫ বছর ছিল। বয়স কম হওয়ায় মাত্র দুই দিন আগে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। কনে বরের বাড়িতে না গেলেও বর্তমানে স্বামীকে হারিয়ে বিধবা হয়ে গেছেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। কিন্তু মরদেহ কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নয়। ঘটনার বিস্তারিত জানেন না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন