প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহিলাদের কেমিক্যাল প্রয়োগ করে অলংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে থাকা শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্যকে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দলের দ্বারা গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) বিকেল ৩ টার সময়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তার অফিসে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে, মামলার প্রেক্ষিতে, শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু এবং সবুজ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের একটি টিম।
পুলিশ সুপার বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একজন অপরাধী দলের সদস্যরা শহরের কিছু স্থানে বয়স্ক মহিলাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিভিন্ন কৌশলে তাদেরকে প্রভাবিত করছে। পরে, তারা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস বা একটি বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল স্কোপো-ল্যামিন ব্যবহার করে ওই মহিলাদের সম্মোহিত করে তাদের কাছ থেকে অলংকার এবং টাকা পয়সা চুরি করে।
পুলিশ সুপার জানান, এই কেমিক্যালটি কোনোভাবে কাউকে নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রমে চলে যায় এবং তারপর অপরাধী সদস্যদের কথামতো কাজ করতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আক্রান্ত ব্যক্তি তার কানের দুল, স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা স্বেচ্ছায় অপরাধীদের হাতে তুলে দেয়। এমনকি তারা অনেক সময় বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা প্রদান করে।
এই বিষয়ে নওগাঁ থানায় মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। সেসব মামলার ভিত্তিতে পুলিশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে যে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের অপরাধ করতে যাচ্ছে। এই সংবাদে ভিত্তি করে, শনিবার ডিবি পুলিশের একটি দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে ওই শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে এই চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অবস্থিত এবং তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে।
তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ এবং খুলনা জেলায় কমপক্ষে দশটি অপরাধ সংগঠিত করেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরো বলেন, এই অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক মহিলাদের লক্ষ্যবস্তু বানাতো। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই মহিলার কাছে সাহায্য চায়, এরপর একজন এসে মহিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে এবং অপরজন এসে সেই মহিলাকে শয়তানের নিঃশ্বাস বা কেমিক্যাল স্প্রে করে। এরপর আক্রান্ত মহিলা তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা তাদের হাতে তুলে দেয়। নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন