প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন কিশোরগঞ্জের মাটি ও মানুষের সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির শক্তিতে রূপ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি কৃষি ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জেলার পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার জন্য নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও গ্রামীণ শিল্পের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কিশোরগঞ্জের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন উল্লেখ করেন, কিশোরগঞ্জের রাতাবোরো চাল ও পনির জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, "এ স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে পণ্য দুটির উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।" তিনি আরও জানান, হাওরাঞ্চলে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা হাঁসের খামারকে ঘিরেও সম্ভাবনা রয়েছে। হাঁসের খামার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ভ্যাকসিনসহ যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। তিনি জানান, উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য একটি উদ্যোক্তা ডাটাবেইজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে জেলার সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, "কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, গ্রামীণ শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাসহ সম্ভাবনাময় প্রতিটি খাতেই উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।" এসব খাতের বিকাশের মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকা-ও আরও বিস্তৃত হবে।
সভায় জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে জেলার পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান মারুফ, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান, জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. আসাদুজ্জামান কাউছার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম তালুকদার।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন