প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উগান্ডার রাজা ওয়ো নাইম্বারের মরদেহ শুক্রবার দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্ষমতাসীন রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ক্যান্সারের কারণে গত ২৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আগামী ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে
, রাজা ওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলের রুয়েনজোরি পর্বতমালার নিকটে অবস্থিত তোরো রাজ্যের রাজা ছিলেন। তিনি ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন।
এভাবে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্ষমতাসীন রাজা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন।
মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৩৪ বছর। উগান্ডা একটি সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচালিত হয়। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে থাকে।
তবে ঔপনিবেশিক শাসনের পূর্বে দেশটিতে বিদ্যমান বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র এখনো টিকে রয়েছে। যদিও এসব রাজপরিবারের রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই, তবুও তাদের সংস্কৃতি ও সমাজে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
শৈশবে রাজা ওয়ো নাইম্বার সিংহাসনে বসার একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র তিন বছরের একটি শিশু রাজকীয় পোশাক ও মুকুট পরে সিংহাসনে বসে খেলনা নিয়ে খেলছে। এত অল্প বয়সে রাজপরিবারের দায়িত্ব গ্রহণের কারণে তিনি উগান্ডার মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
বিশেষ একটি বিমানে করে তার মরদেহ উগান্ডার এনতেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি মরদেহ গ্রহণ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা ওয়ো নাইম্বারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সম্পন্ন হবে।
রাজা ওয়ো নাইম্বারের মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে তোরো রাজ্যে। তাঁর নির্বাচনী এলাকার আইন প্রণেতা জেনিফার মুজুঙ্গু বলেন, ‘আমরা সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না যে মহামান্য আর আমাদের মাঝে নেই। মনে হচ্ছে, আমরা এখনো স্বপ্নের মধ্যে আছি। আমি চাই, এটি যেন সত্যিই একটি স্বপ্ন হয়।’
এনতেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি দেশ ও তোরো রাজ্যের পতাকায় মোড়ানো রাজার কফিনের কাছে যান। তিনি কফিনের ওপর একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানান। পরে কফিনটি একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে তোরো রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ও রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতায় শোক পালন করা হবে।
রাজপরিবারের সদস্য ডেভিস মুগেনি বিমানবন্দরে রাজার মরদেহ গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি বেদনাদায়ক মুহূর্ত। এমন একজন মানুষ, যিনি হাসিমুখে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন এবং যার সামনে তখনও পুরো জীবন পড়ে ছিল।’
রাজা ওয়ো নাইম্বা এইচআইভি ও এইডসের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এ বিষয়ে জাতিসংঘের একজন দূত হিসেবেও কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে জাতিসংঘও শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে। তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রোমিরে আকিকি গত সপ্তাহে জানান, অবিবাহিত রাজা ওয়ো নাইম্বা একজন উত্তরাধিকারী রেখে গেছেন। ফলে তোরো রাজ্যের রাজতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন