প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর এলাকায় নির্মীয়মাণ সেতুর পার্শ্বদেয়াল সম্প্রতি ভেঙে হেলে পড়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে নুরাইনপুর খালের ওপর, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর নির্মাণ কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। হস্তান্তরের আগেই ভেঙে পড়া পার্শ্বদেয়াল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। উপজেলায় প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৩০ মে ২০২৪ তারিখে এই সেতুর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেতুটির জন্য দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লুকাইয়া ট্রেডার্স, হাজির হাট। কাজটি ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুর জন্য নির্ধারিত ছিল। এর বরাদ্দকৃত অর্থ ছিল এক কোটি ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯ টাকা। কাজটি ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কাজের সিডিউল অনুসরণ না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে শুরু থেকেই। নির্মাণ কাজের সময়ে নেমে এসেছে নানা অনিয়ম। সেতুর তলদেশের বিম সমতল না করে উঁচু-নিচু রাখা হয়েছে এবং গ্রেড বিম বাঁকা হয়ে গেছে। কাজের সময় প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদারের লোকজনরা তা উপেক্ষা করেছেন। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নুরাইনপুর খালের ওপর নির্মীয়মাণ সেতুর পশ্চিম পাশের একটি পার্শ্ব দেয়াল দুই ভাগ হয়ে গেছে। পূর্ব পাশের বাকি দুটি পার্শ্বদেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘সেতুর কাজ শুরু করার পর দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। ঠিকাদার ইচ্ছেমতো কাজ করেছেন। অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করা হলেও কিছু হয়নি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা তদারকি কর্মকর্তাকে একবারও কাজের জায়গায় আসতে দেখা যায়নি।’ এ বিষয়ে লুকাইয়া ট্রেডার্সের ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়া অংশ সিডিউল অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’ কাজের অনুকূলে এ পর্যন্ত ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন