প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনার আটঘরিয়ায় গবাদিপশুর পিপিআর রোগ নির্মূলে সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে আটঘরিয়া পৌর এলাকার রাধাকান্তপুর গ্রামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনের পরপরই ওই এলাকার গবাদিপশুকে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
‘পিপিআর রোগ নির্মূল প্রজেক্ট’-এর আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকা-এর অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, আটঘরিয়ার উদ্যোগে এই টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গবাদিপশুকে বিনামূল্যে পিপিআর টিকার আওতায় আনা হবে।
উদ্বোধনী কার্যক্রমের পর প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা রাধাকান্তপুর গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ও খামারে গিয়ে গবাদিপশুকে টিকা প্রদান করেন।
এ সময় পশুর মালিকদের পিপিআর রোগের সংক্রমণ, রোগ প্রতিরোধে টিকাদানের প্রয়োজনীয়তা এবং গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে সচেতন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পিপিআর গবাদিপশুর একটি সংক্রামক রোগ। বিশেষ করে ছাগল ও ভেড়ার মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত পশুর স্বাস্থ্যহানি ও মৃত্যুর কারণে খামারি এবং পশুপালনকারীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
এ কারণে রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তারা বলেন, পিপিআর রোগ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায় হলো সময়মতো গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া। নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
এ লক্ষ্যেই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন বলেন, পিপিআর গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এ রোগের বিস্তার রোধে নিয়মিত টিকাদান জরুরি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিপিআর রোগ নির্মূল কর্মসূচির আওতায় আটঘরিয়ায় বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গবাদিপশুকে পর্যায়ক্রমে পিপিআর টিকার আওতায় আনা হবে। খামারি ও গবাদিপশুর মালিকদের নিজ নিজ পশুকে টিকা দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
পাশাপাশি পশুর পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
নাজমুল হোসাইন আরও বলেন, পিপিআর রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অসুস্থ পশুকে অন্য পশু থেকে আলাদা রাখা জরুরি। কোনো পশু অসুস্থ হলে নিজে থেকে ওষুধ প্রয়োগ না করে দ্রুত প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এ সময় ভি.এফ.এ আজহার আলী, সাকিব, রুবেলসহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়া পশুর মালিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেন এবং পিপিআর রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গবাদিপশুকে বিনামূল্যে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অধিকসংখ্যক গবাদি পশুকে পিপিআর রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি খামারি ও পশুপালনকারীদের আর্থিক ক্ষতি কমানোও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
পিপিআর রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে গবাদিপশু পালনকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
স্থানীয় পশুপালনকারীরা এ ধরনের বিনামূল্যের টিকাদান কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা জানান, সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে টিকা পাওয়ায় গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে তারা উপকৃত হবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পিপিআর রোগ নির্মূলে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি পশুপালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, পিপিআর রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি পশুর মালিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিয়মিত টিকা প্রদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু পালন এবং অসুস্থ পশুর বিষয়ে দ্রুত প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে রোগের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন