প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখার জন্য নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছে ওমান। মাসকাটে ইরানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দেশটি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনকে নির্বিঘ্ন রাখতে এ উদ্যোগটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ওমানের মতে, প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো প্রণালিটিতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌপরিবহন নিশ্চিত করা।
ওমানের প্রস্তাব অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি দুটি পৃথক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া, প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে, চুক্তিটি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালির উত্তর ও দক্ষিণ, উভয় দিকের নৌপথই জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা থাকবে। ওমানের দেওয়া প্রস্তাবের আওতায়, দেশটির নিজস্ব জলসীমার মধ্যে থাকা দক্ষিণ করিডর দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতির মতো সম্পূর্ণ অবাধে চলাচলের সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে, ইরানের জলসীমার মধ্যে থাকা উত্তর করিডর দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তেহরানের পূর্বানুমতি নিতে হবে। তবে এই বিশেষ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপ করা হবে না।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার আরাগচি তার অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুদেশের মধ্যে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য একটি ‘মধ্যবর্তী লেন’ চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথটির অচলাবস্থা নিরসনে ওমানের এই নতুন প্রস্তাবকে বেশ ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের জবাবে ইরান কার্যত এই কৌশলগত নৌপথটি বন্ধ করে দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন