প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারের পক্ষে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ একসঙ্গে জোগান দেওয়া সম্ভব নয়, এই বিষয়ে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আরও বলেছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায় এবং অর্থায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে সরকার হিসাব-নিকাশ করছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) গণমাধ্যমের সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন পে স্কেল ও বড় উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। নতুন বেতন কাঠামোর অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, একসঙ্গে পুরো অর্থ দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
দুই ধাপে অর্থ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং এখনও হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিপুল আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থায় জায়গা কমে গিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। কর আদায় বাড়াতে সরকার প্রতিযোগী বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে কর সংগ্রহে অদক্ষতা, সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতির মতো সমস্যা ছিল এবং এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কর আদায়ে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে।
সরকারের অর্থায়ন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, তারা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদী। এনবিআরকে দুই ভাগ করার উদ্যোগ এবং ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে সরকারের অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। কারণ সরকারের নিয়মিত ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার যে ঘোষণা ছিল, সেটি বহাল থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে কাজ করছি। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং অর্থায়নের বিষয়ে সরকারের হিসাব-নিকাশ শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা পাওয়া যাবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন