প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনী জেলায় মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের পাশাপাশি হাম রোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। চলতি বছরে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৯১। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৯ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯ জন হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে হাম রোগীর সংখ্যা ১১১ জনে পৌঁছেছে।
হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৪৩। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৮৪ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাম উপসর্গের রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে ১ হাজার ৩৩০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৫৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলা পর্যায়ের হিসাবে, ফেনী পৌর এলাকায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখানে ১ হাজার ৩৩০ জন সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে ২২ জনের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। সোনাগাজীতে ১৪৫ জন সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে আটজন, দাগনভূঞায় ৫৬ জনের মধ্যে চারজন, ফেনী সদরে ১৭ জনের মধ্যে দুজন, ফুলগাজীতে সাতজনের মধ্যে দুজন এবং ছাগলনাইয়ায় ২৯ জনের মধ্যে একজনের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। পরশুরামে সাতজন সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেলেও কারও পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়নি।
হামের প্রকোপের পাশাপাশি ফেনীতে ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৬ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪১টি ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে একজনসহ মোট ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ জন। এ নিয়ে ২০২৬ সালে ফেনীতে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩০৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
আক্রান্তের দিক থেকে ফেনী সদর উপজেলা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত—এখানে ১৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর দাগনভূঞায় ৩৬, সোনাগাজীতে ৩০, ছাগলনাইয়ায় ২০, ফুলগাজীতে ১১ এবং পরশুরামে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ২৬ জনের মধ্যে ফেনী সদরে ১৮, সোনাগাজীতে পাঁচ, ছাগলনাইয়ায় দুই এবং ফুলগাজীতে একজন রয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ফেনীতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে গত বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০১ জন। চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন—অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর ইতোমধ্যে ১০৪ জন বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বাড়লেও স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যাপ্ত মশক নিধন কার্যক্রমের অভাবের অভিযোগ করেছেন। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
ফেনী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারের কাজও চলছে। প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন