প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এবার সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে খিলক্ষেত থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ অগাস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।
এটি প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান এতথ্য জানান।
সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালতে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর পর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২৯ জুন শেষে তিনি ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।
কিন্তু গত ৭ অগাস্ট তাকে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ভাটারা থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী। সেই আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে’ ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তদন্তে এ ঘটনায় সাদিকের ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’ বলে উল্লেখ করা হয়।
ওই আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন আদালতে বলেন, ‘ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ান?’
কারাগারে থাকা অবস্থায় কীভাবে সাদিক মামলার ঘটনায় জড়িত হলেন, সে বিষয়ে আদালত ভাটারা থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলে। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেন। সেই ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে ঢাকার ম্যাট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম মেজর সাদিককে ওই মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ দেন।
এর ভিত্তিতে সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন তখন বলেন, ‘আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।’
কিন্তু এর পরপরই খিলক্ষেত থানার নতুন মামলায় সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান ওই থানার এসআই মো. শাহজালাল। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন আজ মঙ্গলবার রাখেন।
এদিন শুনানিকালে মেজর সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে বলা হচ্ছে, গত বছরের ১৭ মে দুপুর ২টার দিকে খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলাকায় ‘নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময়’ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
এই মামলায় আরো বলা হয়েছে, ‘তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করায় তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ভাবমূর্তি, সুনাম ক্ষুণ্ন করা ও ঢাকা সেনানিবাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য ‘সহযোদ্ধা’ নামক সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়।’
এ ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাসের সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়ার আজিজুল ইসলাম পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন