প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুই দেশ, স্পেন ও ইতালির মধ্যকার বিরোধ মারাত্মক আকারে পৌঁছেছে। স্পেনের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর ইতালি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে, মাদ্রিদে ইতালির নাগরিকদের ওপর সাময়িক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জারির ঘোষণা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইতালির জারি করা একতরফা সীমান্ত নিষেধাজ্ঞার জবাবে স্পেন গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ইতালি থেকে আসা আকাশ ও নৌপথের যাত্রীদের ওপর পাল্টা কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ইতালিতে চলমান ‘অনিয়মিত অভিবাসনের চাপের’ প্রেক্ষাপটে শনিবার মধ্যরাত থেকে এ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে এবং আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
এর কিছু ঘণ্টা আগে, স্পেন সতর্ক করে বলেছিল, যদি ইতালি দ্রুত নিজেদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে না নেয় তবে মাদ্রিদ পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে রোম এই হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর দুই মিত্র দেশের মধ্যে এমন বিরোধ বিরল বিষয়। গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই নজিরবিহীন ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনার ফলস্বরূপ, পরিকল্পনা করা হয়েছে যে ইইউর কয়েকটি দেশ অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। এর মধ্যে ইতালি, স্পেনের সঙ্গে শেনজেন অঞ্চলে ভিসামুক্ত চলাচল ব্যবস্থা এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে।
শুক্রবার স্পেনের সরকার ইতালির এ সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য, ইইউর স্বার্থবিরোধী এবং স্পেনের জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস, বলেছেন, এটি ‘ইউরোপীয় ঐক্যের কাঠামোয় ছোড়া একটি টর্পেডো’।
স্পেনের সরকার ইতালিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়ে স্পেনীয় নাগরিকদের অন্য ইউরোপীয় নাগরিকদের মতো আচরণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছেন যে, রোববারের মধ্যে ইতালি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে ‘সমানুপাতিক ব্যবস্থা’ নিতে বাধ্য হবে।
এরপর ইতালির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার জানিয়েছে, ১৫ আগস্টের আগে তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোন পরিকল্পনা করে না। ইতালির দাবী, ওই সময়ে সেউতায় নতুন করে অভিবাসীদের ঢল নামতে পারে বলে স্পেনীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে।
মেলোনির কার্যালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইতালি বিদেশি দেশের হুমকি বা চাপ মেনে নেবে না।’
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ইতালির নিরাপত্তা বা সন্ত্রাসবাদের কোনো ঝুঁকি নেই, নতুন করে অভিবাসীদের ঢল আসছে না এবং অনিয়মিত অভিবাসীরা ইউরোপীয় ভূখণ্ডের দিকে যাচ্ছে না—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হবে। রোমের এই অবস্থানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতালির বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা ঘোষণা করে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সেউতায় নতুন অভিবাসীদের প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে স্পেনীয় পুলিশ অনলাইনে ছড়ানো গুজব ও সামাজিক যোগাযোগের পোস্ট পর্যবেক্ষণ করছে। তবে গত সপ্তাহের মতো নতুন করে অভিবাসীদের ঢল নামবে—এমন কোনো পূর্বাভাস স্পেনীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করেনি।
সেউতার ঘটনায় স্পেনকে শেনজেন অঞ্চলের ভিসামুক্ত চলাচল ব্যবস্থা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার জন্য ইইউ নেতাদের মধ্যে মেলোনিও ছিলেন। তবে আইনগতভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।
ইতালির জোট সরকার প্রতিবছর ছোট নৌকায় করে দেশটির উপকূলে আসা বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ঠেকাতে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে স্পেন সরকার সতর্ক করে বলেছে যে, ‘অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী স্বার্থে পরিচালিত বিভেদ ও অর্থহীন সংঘাত’ সৃষ্টি করা উচিত নয়। তারা আশা প্রকাশ করেছে, ‘ইউরোপপন্থী মনোভাব, সাধারণ বোধ ও সদিচ্ছা শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পাবে।’
স্পেনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেউতায় প্রবেশ করা প্রায় ৭২ হাজার মানুষের মধ্যে ৭০ হাজারই মরক্কোয় ফিরে গেছে। স্পেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত পারি দিতে চেষ্টার সময় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে মরক্কোর মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি। মরক্কান অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস (এএমডিএইচ) এবং ইউরোপীয় কো-অর্ডিনেশন ফর হিউম্যান রাইটস ইন মরক্কো শুক্রবার জানিয়েছে, অন্তত ১৪১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন