প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল নগরবাসী তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন, যার ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। যখনই তারা বাড়ি বাড়ি মিটার রিডিং নিতে বা বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত করতে যান, তখনই গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে। জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেও অনেকে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কর্মীরা আতঙ্কের সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব নগরীর হাসপাতালসহ জনজীবনে স্পষ্টভাবে পড়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন যে, দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে নগরীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে।
নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, "দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা যায় না।" তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎকর্মীরা যখন এলাকায় আসেন, তখন মানুষ তাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।
সদর রোডের ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, "ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সময়েও লোডশেডিং হচ্ছে। এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।" তিনি বলেন, বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ঝুঁকিতে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যুৎকর্মী জানিয়েছেন, "লোডশেডিং হলে গ্রাহকদের ক্ষোভ আমাদের ওপর এসে পড়ে।" তিনি বলেন, মিটার রিডিং নিতে বা সংযোগের কাজ করতে গেলে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কিছু গ্রাহক উত্তেজিত আচরণও করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হাতে নেই। লোডশেডিংয়ের কারণে নগরীর দুই সরকারি হাসপাতালেও দুর্ভোগ বেড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতালে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। নতুন ভবনে বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট, ফ্যান ও বাতি বন্ধ হয়ে যায়। জেনারেটর থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে তা সার্বক্ষণিক চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অপারেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। একই অবস্থা ১০০ শয্যার বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের ভরসা হাতপাখা। রাতের অন্ধকার দূর করতে মোমবাতিও ব্যবহার করতে হয়।
হাসপাতালের রোগী মো. আলামিন জানিয়েছেন, "ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে এসেও গরমে কষ্ট পাচ্ছেন।" তিনি বলেন, টিনশেড ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ না থাকলে থাকা কঠিন হয়ে যায়।
জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানিয়েছেন, বিকল জেনারেটরটি সচলের চেষ্টা করেও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএসের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার কক্ষ সচল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন বলেছেন, নতুন ভবনের জন্য আরও একটি বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওজোপাডিকোর পলাশপুর গ্রিড সাবস্টেশনের বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট আবু জাফর মো. সালেহ বলেছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় জেনারেল হাসপাতালে তুলনামূলক কম লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, ওজোপাডিকো বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানিয়েছেন, অভিযোগ এলে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, "গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে কাজ করা হচ্ছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন