প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে টানা পরাজয়ের পর, দলের অর্ধেক ক্রিকেটার এবং প্রধান কোচকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি উল্লেখ করেন, লর্ডসে পরাজয়ের পর নতুন খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্ত করার ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।
এছাড়া, তিনি নিজের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনাকে ‘অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শেষ টেস্টের আগে সাত ক্রিকেটার পরিবর্তন এবং প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পিসিবির সিদ্ধান্তটি ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনায় বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। শহীদ আফ্রিদি ও শোয়েব মালিকও এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের বিষয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনার পর প্রথমবারের মতো ‘জিও নেটওয়ার্ক’-এর সাথে আলাপকালে নাকভি বলেন, "দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময়ই সমালোচনা হয়ে থাকে এবং এতে আমি বিচলিত নই। ফলাফলের জন্য আমরাই দায়বদ্ধ এবং গত দুটি ম্যাচে যা ঘটেছে তা ঠিক হয়নি। তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মতো আমরা টেস্ট ফরম্যাটেও উন্নতির প্রত্যাশা করছি।"
লর্ডসে পাকিস্তানের পরাজয়টি ছিল গত ২০টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে তাদের ১৫তম হার। বর্তমানে তারা ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ-এর পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে। গত বছর নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তারা কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি এবং গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা সুপার এইট’ থেকে ছিটকে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডালাসে হেরে তাদের ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিযান গ্রুপ পর্বেই এক লজ্জাজনক বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
এ প্রসঙ্গে পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, "সিরিজের প্রতিটি ম্যাচই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খেলোয়াড় ভালো পারফর্ম করতে না পারলে তার বিকল্প খোঁজা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকে না। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য খেলোয়াড়দের দল থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়, বরং তাদের জায়গায় অন্য কাউকে আনা। সালমান আঘার কথাই ধরুন, তিনি অত্যন্ত ভালো খেলোয়াড়, কিন্তু নানা কারণে তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথাও বলা হয়েছে।"
মহসিন নাকভি আরও বলেন, "পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার সবারই আছে, কিন্তু অনেকে এই পরাজয়ের পর দলের জন্য শেষ পরিণতি হিসেবে তুলে ধরেন। যারা জীবনে কোনো সাফল্যই পাননি, সেইসব খেলোয়াড়ের এমন ধারণা বা বয়ান প্রচার করাটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি মাঝে মাঝে সাবেক ক্রিকেটারদের পরামর্শ নিই; আমারও মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটে আমরা খারাপ করছি। এর কারণগুলো বোঝার জন্য আমরা আলোচনা করেছি। সবাইকে অনুরোধ করব খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে দেওয়া বন্ধ করতে; এটা অন্যায়।"
নাকভি দাবি করেন, বোর্ড ও দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অধিকাংশ সমালোচনার মূল কারণ হলো তিনি নিজে এর নেতৃত্বে রয়েছেন। "তারা আমাকে সরিয়ে দিতে চায়, তবে আমি কিছু তথ্য তুলে ধরি। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে আমরা অষ্টম থেকে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছি এবং নতুন কোচিং প্যানেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ছয়টি সিরিজের মধ্যে চারটিতেই জয়লাভ করেছি। টি-টোয়েন্টিতে আমরা নবম স্থানে ছিলাম, এখন ষষ্ঠ স্থানে আছি এবং আমাদের জয়ের হার ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অথচ বলা হচ্ছে দেশে ক্রিকেটের নাকি ইতি ঘটে গেছে।"
গত বছরের ১৩ মে পিসিবি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচ হিসেবে হেসনের নাম ঘোষণা করে। ওই সময় ওয়ানডেতে পাকিস্তান পঞ্চম এবং টি-টোয়েন্টিতে অষ্টম স্থানে ছিল। এর আগে ২০২৪ সালের শুরুতে অর্থাৎ নাকভি পিসিবি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার এক মাস আগে উভয় ফরম্যাটেই তারা চতুর্থ স্থানে ছিল। বর্তমানে তারা ওয়ানডেতে পঞ্চম এবং টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের শুরুতে তারা ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও বর্তমানে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে।
পিসিবি আশা করছে, দলে নতুন যুক্ত হওয়া সাতজন খেলোয়াড়ের মধ্যে পাঁচজনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা নতুন মুখ। তাদের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের জন্য উপযুক্ত কম্বিনেশন বা দল গঠন করা সম্ভব হবে বলে মনে করে পিসিবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন