প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিছু জেলে নৌকা মেরামত করছেন, কেউ আলকাতরা দিচ্ছেন, কেউ জাল সেলাই করছেন, আবার কেউ আলকাতরা মাখানো জাল শুকাতে দিচ্ছেন এবং লোহার কাছি নিয়ে টানাটানি করছেন। এভাবে খুলনার পাইকগাছার প্রতিটি জেলেপল্লীতে মাছ ধরার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ গোছাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। এক সপ্তাহ পর, ৩০ অক্টোবর থেকে সাগরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এখানকার জেলেরা। চলতি মৌসুমে এই উপজেলা থেকে প্রায় ৫ শতাধিক নৌকা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
জেলেরা ৫ থেকে ৬ মাস সাগরে অবস্থান করেন মাছ ধরার জন্য। এজন্য প্রতি নৌকার জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পুঁজির প্রয়োজন হয়, যা মূলত এনজিওর ঋণ এবং মহাজনের চড়া সুদের ওপর নির্ভরশীল। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই তারা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বনদস্যুদের অত্যাচার এবং পারমিট নেওয়ার ক্ষেত্রে বন কর্মকর্তাদের বাড়তি টাকা দিতে হওয়ার মতো নানা শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন জেলেরা।
আগামী ২৯ অক্টোবর শেষ হচ্ছে ইলিশ প্রজনন মৌসুমের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই ৩০ অক্টোবর সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তারা। প্রতিবছরের মতো এবারও সুন্দরবন সংলগ্ন পাইকগাছার বোয়ালিয়া, বাঁকা, কাটিপাড়া, রাড়ুলী, মাহমুদকাটী, নোয়াকাটী, কাশিমনগর ও আগড়ঘাটা জেলেপল্লী থেকে ৫ শতাধিক নৌকা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নৌকা যায় বোয়ালিয়া হিতামপুর থেকে। জাল-দড়ি সেলাই, নৌকা মেরামত ও আলকাতরা মাখানোসহ চাল-ডাল গুছিয়ে নিতে দিন-রাত কাজ করছেন জেলে পরিবারের সদস্যরা।
বোয়ালিয়া জেলেপল্লীর সুবোল বিশ্বাস মন্তব্য করেন, সাগরে যাওয়ার জন্য প্রতিটি নৌকার জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পুঁজির প্রয়োজন হয়। এত টাকা আমাদের কারও কাছে নেই। এই টাকা এনজিওর ঋণ এবং মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে সংগ্রহ করতে হয়। ফলে সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ আহরণ করতে না পারলে সামাজিক ও আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।
সঞ্জয় বিশ্বাস নামের এক জেলে জানান, ইলিশ প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় যদি কমপক্ষে ১৫ দিন এগিয়ে নেওয়া হতো, তাহলে তারা আগেভাগে সাগরে যেতে পারতেন, এতে মৎস্যজীবীরা অনেক লাভবান হতেন।
বাঁকা এলাকার বিমল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বনদস্যুদের অত্যাচারসহ নানা শঙ্কা নিয়ে তাদের সাগরে যেতে হয়। বন বিভাগের পারমিট নেওয়ার জন্য বন কর্মকর্তাদের বাড়তি টাকা দিতে হয়। নৌকা প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া মাছের ট্রলার নিয়ে যাওয়ার সময় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন আরও অনেকে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ শুধুমাত্র সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ পাস দিয়ে থাকে। এখানে এ ধরনের কোন সুযোগ নেই।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, পূর্ব বন বিভাগের অফিসে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এখানে কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের টাকা নেন না। অন্য কোথাও অন্য কেউ নিয়ে থাকলে সেটা তার জানা নেই।
অনিয়ম, হয়রানি, অত্যাচার ও নির্যাতন বন্ধ হয়ে সব ধরনের শঙ্কামুক্ত পরিবেশে জেলেরা যেন সাগরে মাছ ধরতে পারেন-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন